সাতকানিয়ায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা-মাটিচাপা/চাচা-চাচি গ্রেফতার

সাতকানিয়ায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা-মাটিচাপা/চাচা-চাচি গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৯-১৯: ০২:৫৭ পিএম

সাতকানিয়া উপজেলায় এক বছর বয়সী এক শিশুকে গলাটিপে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়ে মৃতদেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ছয় ঘণ্টা পর মাটি খুঁড়ে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে আপন চাচি শিশুটিকে খুন করে মাটিচাপা দেয়। অভিযুক্ত চাচি ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের সুঁইপুরা গ্রামে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত শিশু ছামীম সুঁইপুরা গ্রামের দুবাই প্রবাসী মো. মামুনের ছেলে। তার মা রীনা আক্তার গৃহিনী।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল কবীর জানান, বছরখানেক আগে দুবাই থেকে মামুন লাখ খানেক টাকা তার ভাই নুরুল আবছারের কাছে পাঠান। ওই টাকা মামুনের স্ত্রী রীনাকে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই টাকা না দিয়ে আবছার তিনমাস ধরে রীনাকে হয়রানি করতে থাকেন। রীনা বিষয়টি মামুনকে জানালে তিনি দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। মামুনও তাগাদা দিয়ে সেই টাকা উদ্ধার করতে পারেননি। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং তারা আলাদা হয়ে যান।

শফিউল বাড়ি বলেন, ‘ছয় মাস আগে মামুন আবারও দুবাই চলে যান। কিন্তু দুই ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হচ্ছিল। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে রীনা তার ছেলেকে শ্বাশুড়ির হেফাজতে রেখে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান। এর ফাঁকে শ্বাশুড়ির অগোচরে ছামীমকে নিজের ঘরে গিয়ে আবছারের স্ত্রী মারুফা তাকে গলাটিপে খুন করে। পরে শিশুটির মৃতদেহ বাড়ির নলকূপ সংলগ্ন নরম মাটিতে চাপা দেন।’

ওসি জানান, রীনা ঘাস নিয়ে ফেরার পর ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। জানাজানি হলে প্রতিবেশিরাও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে নলকূপের পাশে নরম মাটি দেখে তাদের সন্দেহ হয়। সেই মাটি অল্প খুঁড়ে প্রথমে তার হাত দেখা যায়। পরে ছামীমের মৃতদেহ উদ্ধার করেন তারা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মারুফা ও তার স্বামী নুরুল আবছারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে রীনা আক্তার বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন বলে ওসি জানিয়েছেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল