‌‍চট্টগ্রামেও অভিযান চলবে: ড. হাছান মাহমুদ

‌‍চট্টগ্রামেও অভিযান চলবে: ড. হাছান মাহমুদ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৯-২০: ০৫:৩০ পিএম

মাদকসহ সব রকম অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, চট্টগ্রামেও প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন,, এ ক্ষেত্রে কে কোন দলের দেখা তা হচ্ছে না, এই অভিযান চলবে। 
মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নত দেশ গঠনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন, এখন দেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, যে কোন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে থিয়েটার ইন্সটিটিউট চট্টগ্রামে আন্ত:স্কুল জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যেখানেই অন্যায়, অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে। আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশে রূপান্তরিত করতে চাই। যারা অনিয়ম করে তারা দেশকে পিছিয়ে দেয়। সুতরাং সমস্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।

শিক্ষার্থীদের প্রতি তথ্যমন্ত্রী বলেন, তোমরাও আজকে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করবে, কখনো সিগারেট খাবে না, মাদকের স্পর্শে আসবে না। আমি জীবনে কোনদিন তাস খেলা খেলিনি। আমাদের সময় তাস খেলা খুব খেলতো। সেটাতে প্রচুর সময়ও প্রয়োজন হতো। আমি শিখিইনি। কারণ শিখলে সেটি খেলা হতো। সেজন্য আমি শিখিনি। তোমাদেরকে আরো একটি অনুরোধ জানাবো, তোমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্ত হবে না। শুধু যে মাদকে যে আসক্তি তা নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারাক্ষণ নিবিষ্ট হয়ে থাকা, এটাও একটি আসক্তি।

বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা বিটিভিতে দেড় দশকের বেশী সময় ধরে বন্ধ ছিল। কেন বন্ধ হয়েছিল আমি জানি না। কিন্তু জাতীয় টেলিভিশন প্রতিযোগিতা দেশে একসময় মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল। এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা যখন অনুষ্ঠিত হতো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সবাই উন্মুখ হয়ে বসে থাকতো, সেখানে কী হচ্ছে না হচ্ছে এসব দেখার জন্য। এখন এটিএন বাংলা ছাড়া অন্য টিভি চ্যানেলগুলো সেভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে বিটিভিতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, আমরা যুক্তিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। যুক্তি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুক্তি-তর্কের ভিত্তিতে করতে হবে। বিতর্ক ছাড়া সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রচণ্ড সহায়ক হবে।

স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমার বয়স যখন সাড়ে ৭ বছর, তখন একদিন আমার বাবা বাসায় এসে আমাকে বললেন, একটা ওয়াদা কর। আমি বললাম, বাবা বলুন। তিনি বললেন, ওয়াদা কর জীবনে কোনদিন সিগারেট খাবে না। আমি কিন্তু জীবনে একটি সিগারেটও খাইনি। আমার বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেছে, সিগারেটে একটি টান দেওয়ানোর জন্য। বলে, শুধু এক টান দে। আমি কিন্তু দেইনি। একটা দিলে দ্বিতীয়টাও দিতে হতো। বাবার কাছে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম সেটা আমাকে বারবার যখনই বন্ধুরা আমাকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করতো, তখনই বাবার কথা মনে পড়তো। আরো কয়েকটি ওয়াদা বাবা করিয়েছিলেন। সেগুলোও আমি পালন করেছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করছেন, আপনারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুক্তির প্রয়োজন আছে। যারা যুক্তিবাদী তারা বিকৃত ইতিহাস বিশ্বাস করে না। যারা যুক্তিবাদী তারা সাম্প্রদায়িক হয় না। যারা যুক্তিবাদী তারা জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকে। দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি যুক্তিবাদীদের ভালোবাসা থাকে।
এদিকে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আয়োজনে এবার আন্ত:স্কুল জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতা ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি চট্টগ্রামের। বাকি দলগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এসএম হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) নুরুল করিম ও বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য্য বক্তব্য রাখেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল