এক বছরে ৭০ হাজার টাকার কলম-খাতা ব্যবহার করেছেন রামগড়ের পিআইও!

এক বছরে ৭০ হাজার টাকার কলম-খাতা ব্যবহার করেছেন রামগড়ের পিআইও!

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০১৯-০৯-২৬: ০৬:০৪ পিএম

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে সরকারের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে এই কর্মকর্তা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বদলি হচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলায়।

শুধু মাত্র গত এক বছরে হিসেবে তিনি জানিয়েছেন এর ভেতর তিনি খাতা-কলম ব্যবহার করেছেন ৭০ হাজার টাকার! অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি লাইব্রেরি থেকে অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে অফিস স্টেশনারি কিনেছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্য নতুন আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামত বাবদ ৩০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করলেও বাস্তবে তার কার্যালয়ে উল্লেখিত বিলের বিপরীতে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামতের কোনাটাই করা হয়নি।

১২ মে ২০১৯ তারিখে সেগুন কাঠের তৈরি ২টি সেক্রেটারি টেবিল ৩৪ হাজার টাকা, ২টি আলমিরা ৩০ হাজার টাকা এবং ৬টি চেয়ার ১৬ হাজার টাকাসহ মোট ৮০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে রামগড়ের মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্ট থেকে তৈরির ক্যাশ মেমো দেখিয়ে বিল উত্তোলন করলেও মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্টের মালিক জানান, গত বছর একটি খাট ছাড়া ওই কর্মকর্তা আর কিছু তৈরি করেননি। গত অর্থ বছরে রামগড় ও লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় কয়েকধাপে বকেয়াসহ ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৩ লাখ টাকা।

স্থানীয় শাহীন লাইব্রেরি থেকে অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে অফিস স্টেশনারি ক্রয় করেছেন ৭০ হাজার টাকা ও অফিসের ২টি কম্পিউটারের মেরামত দেখানো হয় ৩৫ হাজার টাকা। রামগড়ের পাশাপাশি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকার কারণে প্রায় সবক’টি চাহিদা ও বিল তিনি যৌথভাবে উত্তোলন করেন। এদিকে গত ১ আগস্ট থেকে টানা ১৯ দিন ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে ছিলেন না ওই কর্মকর্তা।

এমনকি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অনুপস্থিত থাকাসহ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ। অপরদিকে গত অর্থবছরে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে তা আত্মসাতের অভিযোগে গত মে মাসে জেলার অতিরিক্ত এডিসি মো. আবুল হাসেম তার বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার বিশেষ প্রকল্প ভূমিহীনদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় রামগড় উপজেলায় অনিয়মের বিস্তর অভিযোগও রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অর্থের বিনিময়ে অবস্থাপন্ন পরিবারকে তিনি দেখিয়েছেন ভূমিহীন হিসেবে। নিুমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণের অভিযোগ করা হলেও তিনি ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল দিয়েছেন কমিশন নিয়ে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ও জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত। তিনি জানান, কাজ না করে ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ক্ষমার অযোগ্য। পিআইও’র সঙ্গে তিনি বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন পিআইও।

 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল