চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়/৯০ শতাংশ কাজ শেষ না হলে কেনা যাবে না চিকিৎসা যন্ত্রপাতি

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়/৯০ শতাংশ কাজ শেষ না হলে কেনা যাবে না চিকিৎসা যন্ত্রপাতি

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০১৯-১০-০২: ১০:১৯ পিএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পে নির্মাণ ও পূর্ত কাজের ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার আগে কোনো প্রকারের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা যাবে না। প্রস্তাবিত প্রকল্পে নির্মাণ ও পূর্ত কাজের দরপত্র আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব খাতে জনবল সৃষ্টি ও নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্প প্রণয়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।

এ প্রকল্পের সময়কাল হবে তিন বছর। পূর্ত ও নির্মাণ কাজেই তিন বছর কেটে যাবে। ফলে তিন বছরের আগে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা যাবে না!

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ- সামাজিক বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৮ দিন পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর সভার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওই সভায় উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ, বাজার মূল্যের চেয়ে শত শত গুণ বেশি দামে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের খরচ দেখানো নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে বিভিন্ন প্রকারের যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন-প্রতি পিস ক্যাম্প মাস্ক ৮৪ হাজার টাকা, রেক্সিন ৮৪ হাজার টাকা, টেস্টটিউব ৫৬ হাজার টাকা, স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লাভস ৩৫ হাজার টাকা, বালিশ ২৭ হাজার ৭২০ ও বালিশের কভার ২৮ হাজার টাকা মূল্য ধরা হয়।

২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, সেদিন সভা শুরুর আধাঘণ্টার মধ্যেই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি মৌখিকভাবে বাতিল করে পুনরায় সঠিকভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করে উত্থাপনের পরামর্শ দেয়া হয়।

সভার সিদ্ধান্তে যা বলা হয় :

প্রস্তাবিত প্রকল্পে নির্মাণ ও পূর্ত কাজের দরপত্র আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব খাতে জনবল সৃষ্টি ও নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে হবে। নির্মাণ ও পূর্ত কাজ অন্ততপক্ষে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া এবং জনবল সৃষ্টির অনুমোদন প্রাপ্তির পর যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং ব্ইপত্রের হাল স্পেসিফিকেশনসহ মন্ত্রণালয় পর্য়ায়ে যথাযথভাবে বাজারমূল্যে যাচাই করে নিখুঁতভাবে ক্রয় কার্যক্রম শুরু করতে হবে, যাতে করে ক্রয়কৃত সকল সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে সঠিক পরিমাণে এবং মান নিশ্চিত করে বুঝে নেয়ার ভৌত ও জনবল অবকাঠামো বিদ্যমান থাকে।

প্রকল্প প্রণয়নের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে প্রতিটি ভবনের ফ্লোর ইউটিলাইজেশন প্ল্যান, ভবনের ধরন ও স্পেসিফিকেশনসহ মন্ত্রণালয় পর্যায়ে যথাযথভাবে বাজারমূল্য যাচাই করে নির্ভুলভাবে ক্রয় কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

ভবিষ্যতে কোনো প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের জন্য পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্ভুলভাবে ডিপিপি প্রেরণ করা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, প্রস্তাবিত ডিপিপি প্রস্তুতে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কারা কারা জড়িত ছিল তা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধে সুপেয় পানি ও সরাসরি চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত পানি এবং ওয়াশরুমসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত পানির লাইন আলাদা রাখতে হবে। একই সঙ্গে, ইলেকট্রনিক বায়োমেডিকেল যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য পৃথক বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান বলেন, ২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে তিনি চিকিৎসা যন্ত্রপাতির প্রসঙ্গ উঠলে তিনি প্রকল্প প্রস্তাবনা তুলে নেন। তিনি বলেন, একজন একাডেমিশিয়ান হিসেবে তিনি ক্রয়ের বিষয়টি ভালো করে খেয়ালই করেননি। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মূলত প্রকল্পটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ থেকে করা হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে তিনি শুধু প্রকল্প প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেছেন।

তবে প্রথম বৈঠকেই অসঙ্গতি ধরা পড়লে তিনি প্রকল্পটি আবার তৈরি করে পাঠানোর প্রস্তাব করেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল