লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করা জঙ্গি ঢাকায়!

লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করা জঙ্গি ঢাকায়!

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১০-০৪: ০৫:২৫ পিএম

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজি) এর শীর্ষ নেতাসহ তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। সিটিটিসির দাবি, এদের মধ্যে একজন আফগান ফেরত যোদ্ধা যিনি তালেবানের শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম এ শীর্ষ নেতাসহ তিনজনকে চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন আতিকুল্লাহ ওরফে আসাদুল্লাহ ওরফে জুলফিকার (৪৯), বোরহান উদ্দিন রাব্বানী (৪২) ও নাজিম উদ্দিন শামীম (৪৩)। এর মধ্যে আতিকুল্লাহ ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে একবার বৈঠকও করেছিলেন।

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিটিটিসি জানতে পারে, ১৯৯৬ সালে মুফতি হান্নান যে কমিটি গঠন করেছিলেন সেই কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক ছিলেন আতিকুল্লাহ। পরে বায়তুল মাল ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি দুবাই হয়ে সৌদি আরবে গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকে সাংগঠনিক কাজে একাধিকবার পাকিস্তান যান বলে জানান আতিকুল্লাহ।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, আতিকুল্লাহ আফগান ফেরত যোদ্ধা এবং বোমা বিশেষজ্ঞ। দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক থেকে গত মার্চে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিছু দিন ধরে তিনি সংগঠনের পুরনো সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাংগঠনিক কাজে সক্রিয় করা এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠনের কার্যক্রম চালু করার মিশন নিয়ে ব্যাপক কর্মতৎপরতা শুরু করেন।

এরইমধ্যে সে সংগঠনকে গতিশীল করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংগঠনিক সফর করেন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। পাকিস্তান, দুবাই ও সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের জঙ্গি সংগঠনের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। সে আফগানিস্তানে যুদ্ধকালীন সময়ে ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, আইমান আল জাওয়াহেরিসহ শীর্ষ নেতাদের সাথে একাধিকবার বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বলে তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি।

বাকি দুই জঙ্গি সম্পর্কে সিটিটিসি জানায়, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন শামীম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং বোরহান উদ্দিন রাব্বানী ফেনি জেলার দায়িত্বশীল নেতা ছিল বলে জানা যায়। তারা বর্তমানে কাশ্মীর সমস্যা এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে পরস্পরের যোগসাজশে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালান।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল

আরও পড়ুন