ঢাবিতে চান্স পাওয়া জমজ দুই বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

ঢাবিতে চান্স পাওয়া জমজ দুই বোনের দায়িত্ব নিলেন ডিসি

 চট্টগ্রাম২৪ ডেস্ক
  ২০১৯-১০-০৭: ০৩:৩৫ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া আর্থিকভাবে অসচ্ছ্বল মোধাবী জমজ দুই বোন সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া'র পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। 

শনিবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে সার্কিটে হাউসে মেধাবী ওই দুই শিক্ষার্থী ও তার মায়ের সাথে কথা বলে তাদেরকে এ আশ্বাস দেন তিনি। এসময় বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসান, মোহাম্মাদ শাহজাহান, মো. রাহাত উজ্জামান, শিক্ষার্থীদের মা শাহিদা বেগম, কাউন্সিলর মোল্লা নাসির উদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার নাসির উদ্দিন মেধাবী ওই দুই শিক্ষার্থীকে দুটি মোবাইল ফোন দেন। 

তিনি বলেন, বাগেরহাটে এরকম দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে বিষয়টি জানতে পেরে সকালেই তাদের বাড়িতে যাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়কে বিষয়টি অবহিত করি। মেধাবী ওই মেয়েরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি। 

এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমানও তাদের পড়াশোনার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়া কথা বলেছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমান সমাজে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। দেশ যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, মানুষও মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে। তাই মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর জন্য আমরা সহযোগিতা করব। পড়াশোনা করে, তারা ভালো মানুষ হবে এই প্রত্যাশা করি।

বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিণখানা এলাকার রাজমিস্ত্রি বাবা মহিদুল হাওলাদারের দুই জমজ মেয়ে সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া ও নাদিরা ফারজানা সুমাইয়া। অর্থাভাবে টিউশনি করে নিজেদের পড়াশোনা চালিয়েছেন। এরপরও মাধ্যমিকে বাজ্য বিভাগে সুরাইয়া ৪. ৮৬, সুমাইয়া ৪.৯১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে দুই বোনই গোল্ডেন এ প্লাস পায়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (গ ইউনিট) বাণিজ্য অনুষদে সুমাইয়ার মেধাক্রম ৮৪৬ এবং সুরাইয়ার ১১৬৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের ভর্তির শেষ দিন ৩১ অক্টোবর।

মা শাহিদা বেগম বলেন, অর্থ কষ্টে থাকার পরও মেয়েদের পড়াশোনা করিয়েছি। মেয়েরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। সবাই যখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। তাই এখন একটু চিন্তামুক্ত হয়েছি। ভালো লাগছে অনেক। 

সাদিয়া আক্তার সুরাইয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরে এক ধরণের অনশ্চিয়তা কাজ করছিল মনের মধ্যে। জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র মহোদয়সহ অনেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। সকলের কাছে দোয়া চাই। যাতে ভালো লেখাপড়া করে দেশের সেবা করতে পারি।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল