সহজ গ্রুপে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী

সহজ গ্রুপে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১০-১১: ০৮:২১ পিএম

জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজিত হলো শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ টুর্নামেন্টের ড্র। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ১৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে এবার পাঁচ দেশের আটটি ক্লাব অংশ নিচ্ছে। কঠিন গ্রুপেই পড়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী। তুলনামূলক সহজ গ্রুপ পেয়েছে আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনী।

আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ড্র পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জমকালো লেজার শোয়ের মাধ্যমে ড্র অনুষ্ঠানের শুরু হয়। এরপর টুর্নামেন্ট নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। তারপরে ফ্যাশন শো'য়ের মাধ্যমে অংশ নেওয়া ক্লাবগুলোর পরিচিতির পর ড্র অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

টুর্নামেন্টের মোট আটটি ক্লাবের মাঝে বিদেশি ক্লাবগুলো হলো ভারতের মোহনবাগান এসি ও চেন্নাই সিটি এফসি। মালয়েশিয়ার টেরেঙ্গানু এফসি, মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস ক্লাব ও লাওসের ইয়াং এলিফ্যান্টস এফসি। এছাড়া বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী লি: ঢাকা ও আয়োজক চট্টগ্রাম আবাহনীকে নিয়ে পুর্ণ হয়েছে আট ক্লাবের লাইন আপ।

ড্রয়ে আটটি ক্লাবকে দুই গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। গ্রু ‘এ’তে আয়োজক ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনীর অন্য প্রতিপক্ষগুলো হলো টিসি স্পোর্টস, ভারতের মোহনবাগান, লাওসের ইয়াং এলিফ্যান্টস। একটু সহজ গ্রুপই পেল প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা। ডেথ গ্রুপে পড়েছে ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস। গ্রুপ ‘বি’তে তাদের বাকী দুই প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়ার টেরেঙ্গানু এফসি ও ভারতের চেন্নাই সিটি এফসি।

টুর্নামেন্টের এই তৃতীয় আসরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ১০ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টের রানার্স আপকে প্রাইজমানি হিসেবে ২৫ হাজার ডলার ও চ্যাম্পিয়ন দলকে দেয়া হবে ৫০ হাজার ডলার। প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী, দ্বিতীয় আসরে টিসি স্পোর্টস আর তৃতীয় আসরে জমজমাট আসর আশা করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।

এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শেখ কামালের নাম এশিয়া ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, 'শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি দেশের আধুনিক ফুটবলের জনক শেখ কামালকে যিনি আজকের দেশের ফুটবলকে নতুন দিশা দিয়েছেন। আমরা আশা করছি সবকিছুকে ছাপিয়ে যাবে এই আসর। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শেখ কামালের নাম এশিয়া ছাড়াও পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে এই আশা ব্যক্ত করছি। যুগ যুগ ধরে এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত হোক এই কামনা করি।'

ক্রীড়াঙ্গনে দেশের বর্তমান অবস্থানটার পেছনে শেখ কামালের সক্রীয় অবদান মনে করেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির, 'আজকে ক্রীড়াঙ্গন যে পর্যায়ে এসেছে শেখ কামালেরই পরিকল্পনার অংশ। তবে তার যে স্বপ্ন সেটা এখনও আমরা পূরণ করতে পারিনি। যতদিন এই টুর্নামেন্ট হবে ততদিন আমি সার্বিক সহায়তা করে যাবো।'

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ক্লাব সংস্কৃতি গড়ে ওঠার গল্প জানান মন্ত্রণালয়ের সচিব হারুন উর রশিদ, 'যুবকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শেখ কামালের চিন্তা অনুযায়ী মাঠে নামানোর চিন্তা করা হয়। তরুণরা মাঠে খেলবে। আনন্দে থাকবে। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা আবাহনী প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ফরিদপুর ও চট্টগ্রামে আবাহনীর শাখা করা হয়। এই আধুনিক ফুটবল স্বপ্নদ্রষ্টার চিন্তার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলটা নিয়ে আসা। এই ফুটবলারদের আধুনিক ফুটবল প্রশিক্ষণ দিতেই বিদেশি কোচ নিয়ে এসেছিলেন তিনিই প্রথম। তার নামটা ছড়িয়ে পড়ছে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে।'

এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শেখ কামালের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে থাকবে বলে মনে করেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন, 'আমার ছোটবেলার বন্ধু তার নামকরণে যে টুর্নামেন্ট করেছে তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ, আমি আবাহনী ক্লাবে খেলতাম, ওনার মতো ক্রীড়া সংগঠক আমার জীবনেও পায়নি। তার অনুপ্রেরণা নিয়ে টুর্নামেন্টের শুভ কামনা জানাই। আমাদের দুর্ভাগ্য যে তাকে আমরা হারিয়েছি, তার যে স্বপ্ন ছিলো সেটা বাস্তবায়ন হোক আশা করি।'

টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক তরফদার রুহুল আমিন টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্দেশ্যর কথা জাানলেন, 'এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু নয় সারা পৃথিবীতে এই নামটা ছড়িয়ে দিতেই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে।'

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। এছাড়াও চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাসির, চট্টগ্রাম আবাহনী ক্লাবের মহাসচিব হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, ক্লাবের চেয়ারম্যান এম এ লতিফ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাফুফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, টুর্নামেন্টের প্রধান সমন্বয়ক ও ক্লাবের সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ, ফিফার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণসহ অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল