নীতি-নৈতিকতা জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার চালু করা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

নীতি-নৈতিকতা জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার চালু করা দরকার: তথ্যমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১০-২৬: ০৬:০৩ পিএম

পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ নীতি-নৈতিকতা এবং মানবিক আচরণের জন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার চালু করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। মেধা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রে পুরস্কারের পাশাপাশি সময়ের চাহিদার সঙ্গে আচরণগত পুরস্কার আজ জরুরী। কারণ আমাদের পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধ যান্ত্রিকতার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। 

তথ্যমন্ত্রী (২৬ অক্টোবর) শনিবার সকালে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমূখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ-২০১৯ ও ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। 
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব:) প্রফেসর সুমঙ্গল মুৎসুদ্দী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামশুল আলম তালুকদার, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. সোহেল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান, রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজের মো. আবু ইউসুফ, রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমূখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম মিজানুর রহমান, আজীবন দাতা সদস্য জাফর সালেহ সিকদার, বাবু সজল কুমার তালুকদার, শওকত হোসেন সেতু, মাহাবুবুল আলম, দিদারুল ইসলাম ও সিরাজুল করিম সিকদার বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের প্রাচীন স্কুল রাঙ্গুনিয়া আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুল বহু গুণীজনের জন্ম দিয়েছে। এ বিদ্যালয় আমাদের জন্য গর্ব। এখানে সংস্কৃতির চর্চা হয়। চট্টগ্রামের অনেক গুণীজন ও ব্যক্তিবর্গ এ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন। ১৯১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

 তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন দিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করা যায়না। মেধা বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মমত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। উন্নত জাতি গঠন করতে হলে উন্নত প্রজন্ম গঠন করতে হবে। দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার মানসিকতা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকেই গ্রহণ করবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ে নীতি-নৈতিকতার ক্লাশ নিতে হবে। নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ কখনো সমাজে অন্যায় অপরাধ করতে পারে না। এরা দেশ ও সমাজের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে জানে। রাঙ্গুনিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার পরিবার নেই, আমার পরিবার রাঙ্গুনিয়াবাসী। 

পরে তিনি বিদ্যালয়ের ‘মিড ডে মিল’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি প্রসঙ্গ:

এদিকে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর দাবি প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে হলে তো প্রথমে তার জামিন নিতে হবে। এরপর আদালতের অনুমতি লাগবে।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসায় সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 

‘স্বজনেরা তাকে বিদেশে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারবেন কী না, তিনি জামিন পাবেন কী- পাবেন না, এসব আদালতের বিষয়। আদালত যদি তাকে জামিন দেয়, বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়, তবেই তার বিদেশ যাওয়ার প্রসঙ্গটি আসবে। সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করবে না।’


তিনি বলেছেন, দেশে অনেক হাসপাতাল রয়েছে। কিন্তু সেখানে না রেখে সরকারিভাবে দেশের সেরা হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

‘বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল মেডিক্যাল শিক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। দেশের সমস্ত প্রতিথযশা চিকিৎসকেরা এর সঙ্গে সংযুক্ত। এখানে কোয়ালিটি চিকিৎসা হয়।’

শনিবার (২৬ অক্টোবর) নগরের দেওয়ানজী পুকুর লেন এলাকার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুক্রবার তার বোনসহ আত্মীয়-স্বজনেরা দেখা করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে খালেদা জিয়াকে কোনো চিকিৎসক দেখতে যাননি। কিন্তু এটি মিথ্যা।

‘আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, বেগম জিয়াকে ডিউটি ডাক্তাররা নিয়মিত চেকআপের মধ্যে রেখেছেন। সিনিয়র ডাক্তাররাও তাকে এক-দুই দিন পরপর দেখতে যান। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। তার শরীরের অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরে স্ট্যাবল।’

খালেদা জিয়ার হাঁটুর ব্যথা বেশ পুরনো মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা নিয়েই তিনি দুইবার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির মতো একটি বড় দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বও পালন করেছেন।

‘হাঁটুর এ সমস্যা তেমন বড় সমস্যা নয়। এ ধরনের সমস্যা প্রায় সব মানুষের মধ্যে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেগম জিয়ার এ সমস্যাটি একটু বেড়েছে। কিন্তু তার স্বাস্থ্য বেশ কিছু দিন ধরে স্ট্যাবল রয়েছে। যেটি চিকিৎসকেরা আমাকে জানিয়েছেন।’


 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল