ঐতিহাসিক ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের

ঐতিহাসিক ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় টাইগারদের

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১১-০৪: ০৯:০৩ এএম

উপলক্ষটা অনেক বড়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ১০০০তম ম্যাচ বলে কথা। ২০০৫ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম সংস্করণের হাজারতম ম্যাচটি খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

আর এ সুযোগটিকে স্মরণীয়ই করে রাখলেন মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। দলের দুই প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানেই জিতেছে টাইগাররা। স্বাগতিকদের করা ১৪৮ রানের জবাবে বারবার ম্যাচের ভাগ্য দুলেছে পেন্ডুলামের মতো। তবে শেষ হাসি হেসেছেন দুই ‘ভায়রা ভাই’ মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ-ই।

দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে একদম শেষ ওভারে গিয়ে। অভিষিক্ত নাইম শেখ ২৬ ও আরেক বাঁহাতি সৌম্য সরকারের ৩৯ রানের ওপর দাঁড় করানো ভিতে, দালানের শেষ ইটটা বসান মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

দুই ভায়রার অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটিতে ম্যাচের ৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। অভিষিক্ত শিভাম দুবের করা শেষ ওভারের তৃতীয় বলে অসাধারণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের পঞ্চম ফিফটিতে মুশফিক অপরাজিত থাকেন ৬০ রান করে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো।

টাইগারদের ইনিংসে বারবার ঘুরেছে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। কখনও মনে হয়েছে এগিয়ে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত। চেপে ধরেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছেন নাইম ও সৌম্য। আর শেষদিকে দুর্দান্ত ফিনিশ করেছেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ।

অথচ ইনিংসের প্রথম বলে দারুণ কভার ড্রাইভে দুই আর পরের বলে কবজির আলতো টোকায় মিডউইকেট দিয়ে চার- বাংলাদেশের শুরুটা এমন দুর্দান্তই করেছিলেন লিটন। কিন্তু সে ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান দলের অন্যতম স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান লিটন দাস।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন অভিষিক্ত নাইম শেখ এবং ড্যাশিং সৌম্য সরকার। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে'তে ৪৫ রান পায় বাংলাদেশ। রানরেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলে ৭ ওভারে ৫৩ রান জমা হয় স্কোরবোর্ডে।

কিন্তু অষ্টম ওভারে লেগস্পিনার ইয়ুজভেন্দ্র চাহাল আক্রমণে আসতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন নাইমকে। পরপর তিন বল ডট খেলায় আর মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি তরুণ নাইম। ফলে হাওয়ায় ভাসিয়ে খেলার চেষ্টায় আউট হন ২৮ বলে ২৬ রান করে। নিজের অভিষেক ইনিংসটি তিনি সাজান ২ চার ও ১ ছয়ের মারে।

শুধু নাইমকে ফিরিয়েই থেমে থাকেননি চাহাল। নিজের প্রথম দুই ওভারে খরচ করেন মাত্র ২ রান। যার ফলে ৭ ওভারে ১/৫৩ থেকে ১০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২/৬১ রানে। জয়ের জন্য রানের চাহিদা তখন পৌঁছে যায় ওভারপ্রতি প্রায় ৯ রানে।

এটিকে চাপ হিসেবে না নিয়ে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে থাকেন মুশফিক ও সৌম্য। তবে বেশ ভাগ্যবানই বলা চলে মুশফিককে। কেননা চাহালের তৃতীয় ওভারে দুইবার নিশ্চিত লেগ বিফোরের হাত থেকে বেঁচে যান তিনি। তবে এসবকে থোড়াই কেয়ার করে সৌম্যকে নিয়ে গড়েন ৬০ রানের জুটি।

বেশ কিছুদিন ধরেই অফফর্মে থাকা সৌম্য দারুণ সঙ্গ দেন মুশফিককে। তবে শেষ করতে পারেননি ম্যাচ। ইনিংসের ১৭তম ওভারের শেষ বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাজঘরে। আউট হওয়ার আগে ১ চার ও ২ ছয়ের মারে ৩৫ বলে ৩৯ রান রান করেন তিনি।

তখনও ম্যাচ জয়ের জন্য বাংলাদেশকে করতে হতো ১৮ বলে ৩৫ রান। ঠিক তখনই নিজের তুরুপের তাসটি খেলে দেন রোহিত। লেগস্পিনার চাহালকে ডাকেন নিজের শেষ ওভার করার জন্য। তবে নিজের আগের তিন ওভারের মতো শেষ ওভারে আর পাত্তা পাননি চাহাল।

 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল