ট্রেন চালানো নিয়ে একে অপরের দায় চাপালেন লোকো মাস্টার ও সহকারী

ট্রেন চালানো নিয়ে একে অপরের দায় চাপালেন লোকো মাস্টার ও সহকারী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১১-১৪: ১১:৩৮ এএম

ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের লোকো মাস্টার (এলএম) তাছের উদ্দিন। তিনি ট্রেন চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা শুরু করলেন। তার সাথে ছিলেন সহকারী লোকো মাস্টার (এএলএম) অপু দে। তাদের সাথে ছিলেন গার্ড আবদুর রহমানও। এরপর তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেসের আউটার এবং হোম সিগন্যালে লাল বাতি (সর্তক সংকেত) দেয়া হলেও মঙ্গলবার ভোর রাতে কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এতে ১৬ জন নিহতের পাশাপাশি শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ট্রেন চালকের ঘুম এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

 

তবে লোকো মাস্টার (এলএম) নাকি সহকারী লোকো মাস্টার (এএলএম) ট্রেন চালাচ্ছেন সেটি সঠিক করে কেউ বলছেন না। এটি নিয়ে একে অপরের দায় দিচ্ছেন। তাদের দুইজনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বেশে কথা হলে এমনটাই বলেন তারা। ইতিমধ্যে উক্ত অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে প্রশাসন। তারা বর্তমানে পলাতক আছেন। তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছেন প্রশাসন। তাছাড়া এই ঘটনায় পৃথকভাবে পাচঁটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে। এর মধ্যে বাংলা‌দেশ রেলও‌য়ের ২টি, রেলপথ মন্ত্রণাল‌য়ের ১টি, সরকা‌রি রেলপ‌রিদর্শক ১‌টি, জেলা প্রশাসন ১টি। এসব কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত দাখিলের নির্দেশনাও দিয়েছে রেলওয়ে। তবে, পরে অভিযুক্ত তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের এলএম তাছের উদ্দিন ও সহকারি এলএম অপু দে’কে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া পরই ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।

 

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তুর্ণা নিশিথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে যাত্রা করা ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রেল সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সকর্ত সংকেত দেয়া সত্ত্বেও ট্রেন চালকের দায়িত্বহীনতার কারণে (ট্রেন চালানোর সময় ঘুম ও অসচেতনতা) দেশের এতো বড় একটি দূুর্ঘটনা ঘটেছে। যা রেলের জন্য অনেক ক্ষতি হয়েছে। এক্ষেত্রে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবহেলার বিষয়টাও তুলছেন তারা।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল