মায়ের হাত ধরে হারিয়ে গেলেন ছেলেও

মায়ের হাত ধরে হারিয়ে গেলেন ছেলেও

 ফিচার ডেস্ক
  ২০১৯-১১-১৭: ০৫:২৮ পিএম

আট বছরের ছেলে আতিকের হাত ধরে স্কুলের পথে বের হয়েছিলেন গৃহবধূ জুলেখা খানম ফারজানা (৩৪)। তবে তাদের আর স্কুলে যাওয়া হয়নি। গ্যাস বিস্ফোরণে মা-ছেলের করুণ মৃত্যু ঘটেছে পথেই।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে নগরের পাথরঘাটা এলাকায়। গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণে শুধু মা-ছেলেই নন, প্রাণ হারিয়েছেন আরও পাঁচজন। এছাড়া একই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণে দেয়াল চাপায় মারা যান গৃহবধূ ফারজানা ও ছেলে আতিক। 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আদালত থেকে ছুটে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। সহধর্মিণীকে হারিয়ে চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। আরেক ছেলেকে জড়িয়ে ধরে তার কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ। 

এ সময় তার সাথে থাকা ছোট ছেলে আতিউর রহমান শুভ বাবাকে বলছিলেন ‘আমি মার কাছে যাব। মা কোথায়? মাকে ডাকো। ওহ বাবা, মাকে ডাকো না’। এভাবেই ছয় বছরের সন্তান খুঁজছিলেন মা জুলেখা খানম ফারজানাকে । শুভ জানে না তার মা জুলেখা ও বড় ভাই আতিকুর রহমান (০৮) গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন। 

বড় ছেলে আতিকুর রহমানকে কোচিংয়ের নেওয়ার পথেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারমিন সুলতানা নামে তাদের এক নিকটাত্মীয়।

তিনি বলেন, ‘শুভ ও আতিকুর দুই ভাই। দুই ভাই-ই পাথরঘাটা এলাকার সেন্ট প্লাসিড স্কুলে পড়ে। শুভ প্লে-ইভিনিং আর আতিকুর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। শুভর বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে ৭টার দিকে শুভকে সেন্ট প্লাসিড স্কুলে পরীক্ষার হলে দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন মা জুলেখা খানম। পরবর্তীতে সাড়ে ৮টার দিকে আবারও বাসা থেকে বেরিয়ে বড় ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। বাসা থেকে হেঁটে কোতোয়ালী মোড়ের দিকে যাচ্ছিল মা-ছেলে। পথিমধ্যে গ্যাসলাইন বিস্ফোরণ হয়ে মা-ছেলে মারা গেলেন’।
চমেক হাসপাতালে বিলাপ করে কাঁদছেন জুলেখা খানমের স্বামী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাকে রেখে কেন চলে গেলে। আমাকেও নিয়ে যেতে। আমি কী দোষ করেছি। এভাবে কেন তোমার মৃত্যু হলো। আল্লাহ আমাকেও নিয়ে যাও। আমি কাকে নিয়ে বাঁচব। আমার শুভকে এখন কে দেখবে? আমাকেও নিয়ে যাও আল্লাহ।’

এদিকে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এ নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে নিহত সাতজনের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেয়া হবে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল