মহেশখালীতে আজ আত্মসমর্পণ করছে দেড় শতাধিক জলদস্যু

মহেশখালীতে আজ আত্মসমর্পণ করছে দেড় শতাধিক জলদস্যু

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১১-২৩: ০৮:৪৬ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মহেশখালীতে ২য় দফায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদসহ মহেশখালী তথা কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় থানা সমূহের সংঘবদ্ধ জলদস্যু, অস্ত্র তৈরির কারিগর ও পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অন্তত ১৭টি বাহিনীর অনুমানিক দেড় শতাধিক জলদস্যু অস্ত্র কারিগর, দাগী সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধানরা আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন।
আজ ২৩ নভেম্বর শনিবার মহেশখালীর কালারমার ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের জন্য ইতোমধ্যে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার) যথাক্রমে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন। সকাল ৯ টায় প্রথম ফ্লাইটে অতিথিরা কক্সবাজার পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। এরপর সকাল সোয়া ১০ টার দিকে সমুদ্রপথে স্পিডবোটযোগে কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আশেক উল্লাহ রফিকসহ, কক্সবাজারের ৪টি আসনের সংসদ সদস্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতৃবর্গ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, র‌্যাবের কর্মকর্তা, বিজিবি’র রিজিওন কমান্ডার, কোস্টগার্ডের প্রতিনিধি, মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা, কালারমারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ প্রমুখ যোগ দেবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ দিকে আত্মসমর্পনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর ও আত্মসমর্পনে উদ্বুদ্ধ করে সেইফ হোমে নিয়ে যাওয়া সাংবাদিক আকরাম হোসাইন। তার সাথে স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে সহযোগিতাকারী দৈনিক আজাদীর মহেশখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরিদুল আলম দেওয়ান জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা না হলেও ২৩ নভেম্বর শনিবার বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী, জলদস্যু ও অস্ত্রের কারিগররা আনুষ্ঠানিকভাবে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার প্রক্রিয়া গতকাল ২২ নভেম্বর সম্পন্ন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে গত এক সপ্তাহ আগে থেকে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে মহেশখালী তথা কক্সবাজার উপকূলের দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সামগ্রী ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পনের উদ্দেশ্যে সেইফহোমে চলে গেছেন।
প্রশাসনিক একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আত্মসমর্পনকারী প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে সরকারের তরফ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর ১ম দফায় মহেশখালীতে একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে কক্সবাজার উপকূলের ৪৩ জলদস্যু, সন্ত্রাসী ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় এটি ২য় আত্মসমর্পন অনুষ্ঠান। এ আত্মসমর্পনের ফলে এলাকায় বিবদমান সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর মধ্যে শান্তি-শৃংখলা ফিরে আসবে এবং সাগরে দস্যুতা কমে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল