'নগরবাসী সচেতন না হলে, গালি শোনা ছাড়া উপায় নেই'

'নগরবাসী সচেতন না হলে, গালি শোনা ছাড়া উপায় নেই'

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-০৩: ০৭:২১ পিএম

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন,   ‘আমরা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারিনা। নগরের ময়লা পরিস্কার করার জন্য সর্বাত্তক ব্যবস্খা নেওয়া হয়েছে। কে ময়লা পরিস্কার করবে, কখন করবে সব। অথচ নাগরিকরা যদি পরিচ্ছন্নতাকর্মী চলে যাওয়ার পরে রাস্তা ময়লা ফেলে যায়। আর সে জন্য সিটি কর্পোরেশনকে গালি দেওয়া হয়। তাহলে গালি শোনা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে ‘চসিকের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধতা আছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘নিউমার্কেট মোড়ে হকারদের কয়বার উচ্ছেদ করবো। এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও দায়বদ্ধতা আছে। আমাদের মাত্র একজন  ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি কয়দিকে যাবেন। তাই  সব  সময় অভিযান চালাতে পারেন না। এছাড়া আমরা চাইলেই ভিযান চালাতে পারিনা। কারণ ািভিযানে পুলিশ লাগে। সব সময় পুলিশ পাওয়া যায় না।’

মেয়র বলেন, ‌‌‘চট্টগ্রাম নগরে সেবা প্রদানকারী সরকারী বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা সার্বিক সহায়তা দিয়ে আসছি। এছাড়াও নগরের উন্নয়নের স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড অন্যান্য নাগরিক সেবা প্রদানকারী সরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্প চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়নেও আমরা কাজ করে আসছি। যার মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করাসহ দীর্ঘ মেয়াদী কিছু প্রকল্প ‘

মেয়র জানান, ‘বিগত সময়ে নগরের ১ হাজার ৩৭৫টি খোলা ডাস্টবিন থেকে ৮২৫টি অপসারণ করা হয়েছে। নগরবাসীর সংখ্যা বেড়েছে বর্জ্য বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দিনের বেলা থেকে রাতে বর্জ্য অপসারণ করছি। আমরা ৯ লাখ বিন বিতরণ করেছি। ১৯৭২ জন পরিচ্ছন্ন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছি।’

বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন খাল খননের কাজ চলছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘১২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ ফুট প্রস্থ এ খাল খনন শেষ হলে নগরের বহদ্দারহাট, শুলকবহরসহ বিস্তির্ণ এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। খালের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা তৈরী করা হবে। নগরবাসী এই খালের পারে এসে নিতে পারবেন স্বস্থির নিঃশ্বাস। এ খাল তৈরীতে যে সব মালিকদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।’

মেয়র বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এখানে বন্দরের জমি লিজ নিয়ে অনেক জ্বালানি স্থাপনা ও তৈলাধার গড়ে তোলা হয়েছে। যা সরানো কঠিন কাজ। সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত দুই পাশে ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। জাইকার অর্থায়ন ও ডিজাইনে হচ্ছে পোর্ট কানেকটিং ও এক্সেস রোডের কাজ। নিমতলা থেকে অলংকার পর্যন্ত ৬ দশমিক ২ কিমি পোর্ট কানেকটিং সড়ক। এক্সেস রোডের কাজে এলইডি লাইটিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরাকান সড়কের কাজ ১২টি লটে চলমান আছে। কম সময়ে ডিসেম্বরের মধ্যেছ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

তিনি জানান, নগরের ৮০ ভাগ সড়ককে আলোকায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৩০৪ কিমি সড়কে ৬৪ হাজার ৬৮৩টি এলইডি বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

কাজীর দেউড়ি শিশুপার্ক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সেনাবাহিনী জায়গাটি শিশুপার্ক করার জন্য চসিককে দিয়েছিল। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চসিকের চুক্তিটা নবায়নযোগ্য। তাদের আধুনিক রাইডের শর্ত দিয়েছি। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তারা আধুনিক রাইড সংগ্রহ করছে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল