৪র্থ সমাবর্তন আজ,  বর্ণিল সাঁজে চুয়েট

৪র্থ সমাবর্তন আজ, বর্ণিল সাঁজে চুয়েট

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-০৫: ০৯:০৯ এএম

ভবন থেকে গাছপালা—সবখানেই আলোর রোশনাই। কোথাও জ্বলছে লাল বাতি, কোথাও বা সাদা-নীল। লেকের পানিতেও আলোর নাচন। সেখানে বসানো হয়েছে ফোয়ারা। সবখানেই উৎসবের আমেজ। যেন নবরূপে সেজে উঠেছে সবুজ প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ও সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব ঘিরেই এত আয়োজন।

১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়টি পা রেখেছে ৫২ বছরে। এই মাইলফলক স্মরণীয় রাখতে এ বছর সমাবর্তন ও সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে পাশাপাশি দুটি দিনে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সমাবর্তন এবং পরদিন শুক্রবার বসবে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন। এ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই বর্ণিল রূপে সাজানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

সমাবর্তনে যোগ দিতে ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় সার্কিট হাউসে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। রাত্রিযাপন করেছেন সার্কিট হাউসেই।

রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বিবেচনায় গতকাল বিকেল থেকেই নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকায় সকল দোকান-পাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। নিয়ন্ত্রণে আনা হয় সাধারণ মানুষের চলাচলও। আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাউজানের চুয়েট ক্যাম্পাসে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সমাবর্তন শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ফিরে যাবেন।

সমাবর্তনের ঘিরে চুয়েট ক্যাম্পাসে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই বর্ণিল রূপে সাজানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ভবন থেকে গাছপালা—সবখানেই আলোর রোশনাই। কোথাও জ্বলছে লাল বাতি, কোথাও বা সাদা-নীল। লেকের পানিতেও আলোর নাচন। সেখানে বসানো হয়েছে ফোয়ারা। সবখানেই উৎসবের আমেজ। যেন নবরূপে সেজে উঠেছে সবুজ প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আজ জমাকালো সমাবর্তনের মধ্যে দিয়ে সাঙ্গ হবে এ মহাযজ্ঞ।

এছাড়াও রাউজান উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে চুয়েট ক্যাম্পাস এবং পুরো রাউজানে। চট্টগ্রাম শহর থেকে কাপ্তাই সড়কপথে চুয়েট যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে রাউজানের হাজার হাজার জনতা হাতে জাতীয় পতাকা এবং রাষ্ট্রপতির ছবি সংবলিত পতাকা নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবে। রাষ্ট্রপতির এ আগমনকে ঘিরে সড়কটির দু’পাশ থেকে অবৈধ এবং ভ্রাম্যমাণ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান করা হয়েছে। দু’পাশের গাছ, স্থাপনাগুলো সেজেছে নতুন রূপে। গাছ ও স্থাপনাগুলোতে লাগানো হয়েছে গোলাপী-সাদা রঙে। ঝকঝকে তকতকে করা হয়েছে কাপ্তাই সড়কের ৮ কিলোমিটার পথ।

বিশেষ করে উরকিরচর, নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পাহাড়তলী ইউনিয়নের দু’পাশ পেয়েছে ভিন্নতা। চুয়েট ক্যাম্পাসজুড়ে সাজানো হয়েছে জমকালো আয়োজনে। মূল ফটক, চুয়েটের অভ্যন্তর, ভবন, চত্বর, গাছপালা সেজেছে ভিন্ন আয়োজনে। পথে পথে শোভা পাচ্ছে নানা আলপনা আর কারুকাজ। নানা রঙে রঙিন করে তোলা হয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। বিকেল কিংবা সন্ধ্যা নামলেই বর্ণিল আলোকচ্ছটায় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে এ ক্যাম্পাসের প্রত্যেক এলাকা।

এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন, সমাবর্তনে যোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় ফিরে যাওয়াকে ঘিরে নগর ও জেলা পুলিশ পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা। নগর ও জেলা পুলিশ নিয়োজিত ফোর্সের পাশাপাশি রেঞ্জ পুলিশ থেকেও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চুয়েটের এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা ২ হাজার ২৩১জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল