‘পকেটমারকে গণধোলাই দেওয়ার মত মজুতদারদের দিতে হবে মগজ ধোলাই’

‘পকেটমারকে গণধোলাই দেওয়ার মত মজুতদারদের দিতে হবে মগজ ধোলাই’

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-০৫: ০৭:০৮ পিএম

পকেটমারদের যেমন গণ ধোলাই দেওয়া হয় তেমনি মজুতদার-মুনাফালোভিদের মগজ ধোলাই দিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হলো একটা আজব দেশ। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমে যায়। এখন বিভিন্ন দিকে ধান উঠছে। কৃষকরা হাহাকার করছে। ধানের দাম নেই। অথচ ব্যবসায়ী আর মজুতদাররা দুই-তিনটাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রতি কেজিতে!’

‘এটা আসলে খুব দুঃখজনক। এখানে আমি কি বলবো? পকেটমারদের যেমন গণধোলাই দেওয়া হয় তেমনি এদেরকেও। আসলে এদেরকে মগজ ধোলাই দিতে হবে।’

 

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) চুয়েট কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে যোগদিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা দাম বাড়িয়ে মানুষকে ঠকাচ্ছে সেসব মজুতদার-মুনাফালোভিদের বোঝাতে হবে। রাতারাতি ধনী হওয়ার জন্য এসব কাজ ঠিক না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদেরকে শুধু উন্নয়নমূলক কাজ নয়, মানুষকে মোটিভেট করা, এইরকম মজুদারদারদের বুঝিয়ে সুঝিয়ে সঠিক পথে আনা আপনাদের একটা পবিত্র দায়িত্ব। এইগুলো আপনার পালন করবেন।’

রাষ্ট্রপতি চুয়েটে মেয়েদের গোল্ডমেডেল না পাওয়া নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানে মাত্র ৪টা গোল্ড মেডেল ৩টা ছেলেরা নিয়ে গেল আর একটা এবসেন্ট সেটাও নাকি ছেলে। এখানে মেয়েরা আমাকে একটু হতাশ করেছে।  শোনলাম এখানে মেয়েদের সংখ্যা ৩৪-৩৫পারসেন্ট হবে। অবশ্য আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বলছিলাম, মেয়েরা গোল্ড মেডেল পাইলে অলঙ্কার বানায় ফেলে , এই কথার কোন প্রভাব পড়ছে কিনা জানিনা।’

তিনি বলেন, ‘প্রকোশলীরা হলেন উন্নয়নের কারিগর। তারা মেধা-মননে প্রনীত হবে উন্নয়নের রুপরেখা। প্রকৌশল শিক্ষা যদিও হাতে কলমে তবুও এখানেও সৃজনশীলতার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। প্রকৌশলীদের জ্ঞানের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে যুগোপযোগী পাঠক্রম ও উন্নত পাটদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যেখানে ছাত্রদের অন্তর্নিহিত মেধার সৃজনশীল বিকাশের সকল আয়োজন নিশ্চিত করা হয়। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং দেশ বিদেশের সর্বশেষ তথ্য সমৃদ্ধ শিক্ষা, গবেষণা এবল সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যাতে শিক্ষার্থীরা সম্পৃক্ত হতে পারে সে তার দ্বার উন্মোচন করবে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ছাত্র শিক্ষক বন্ধুত্ব মূলক সম্পর্ক বজায় থাকা আবশ্যক। শিক্ষকদের হতে হবে স্নেহশীল ও অভিভাবকতুল্য। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মহান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং একটি জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে।’

৭৫ এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যহত করা হয় বলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই স্বাধীনতার ৪৮ বছর পার করেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির যে লক্ষ ছিলো তা আমরা এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সে পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয় বাকস্বাধীনতা, চিন্তা ও মতামতের স্বাধীনতা।’

মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে যথাযথভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশ্বায়নের এ যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। আত্মমর্যাদা সমুন্নত রেখে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।’

‘আমি আশা করি, আজকের নবীন প্রকৌশলীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করবে। তাদের সৃজনশীল চিন্তা ও লব্ধ জ্ঞানকে এ লক্ষ্যে কাজে লাগাবে।’

তিনি বলেন, ‘নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে আজ গনতন্ত্রে প্রতিষ্ঠিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার সূবর্নজয়ন্তীকে সামনে রেখে একটি তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক জ্ঞান নির্ভর দেশ গঠনে ‘রুপকল্প ২০২১’ ও ‘ রুপকল্প ৪১’ ঘোষনা করেছেন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন,’বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনায় একটি দপশ। এদেশে রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ, উর্বর কৃষি খাত ও সম্ভাবনাময় প্রকৃতিকসম্পদ। জনবহুল এ দেশটিকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উপায়ে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার।’

এবারের সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা ২ হাজার ২৩১জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিয়েছেন মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

সমাবর্তনে আরো বক্তৃতা করেন বিভাগীয় কমিশনার মো আবদুল মান্নান, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো ইলিয়াস হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা।

এর আগে রাউজান উপজেলার ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে তিন বছর যাবত প্রতিদিন চলমান স্কুল ফিডিং মিড ডে মিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২২ হাজার ২শ ৬০ টি টিফিন বক্স বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল