আদালত অঙ্গনকে রণাঙ্গন বানিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন না: ওবায়দুল কাদের

আদালত অঙ্গনকে রণাঙ্গন বানিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন না: ওবায়দুল কাদের

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-০৭: ০৭:২৩ পিএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির বিষোদগারে আওয়ামী লীগের পতন হবে না। চক্রান্ত করে টেমস নদীর ওপার থেকে নাশকতার নির্দেশ নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আদালত অঙ্গনকে রণাঙ্গন বানিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন কেউ দেখবেন না, সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত হবে। কেউ যদি মনে করেন একটা ধাক্কা দিলেই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালদিঘী মাঠে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাধীনতাসহ বাংলাদেশের যা অর্জন তার সবকিছু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাত ধরে অর্জিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের দল। গণমানুষের আস্থার ঠিকানা। তাই কোন চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী বা খারাপ লোকদের জায়গা আওয়ামী লীগে নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগে অনেক অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। তাদের অনেককে চিহ্নিতও করা হয়েছে। কাজেই কেউ দল ভারী করার জন্য অনুপ্রবেশকারী, সন্ত্রাসী বা খারাপ লোকদের দলে টানবেন না। অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে দলের কোন লাভ হয় না। বরং এরা সুবিধা লুটে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা কখনো দলের সাথে বেঈমানী করেনা। তৃণমূল এসব নেতা-কর্মীরাই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। কাজেই দলীয় সম্মেলনগুলোতে ত্যাগী এসব নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের নেতৃত্বের আসনে বসাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, যারা আবরারের মত ছাত্রদের হত্যা করে, অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে দেয় , দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করে এমন নেতার প্রয়োজন আওয়ামী লীগের নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পোস্টার ব্যানার বিলবোর্ড টাঙ্গিয়ে সবাই নেতা হতে চায়, কেউ কর্মী হতে চায়না। অথচ নেতা হতে হলে প্রথমে কর্মী হতে হবে। নেতাদের পোস্টার ব্যানার টাঙ্গানোর জন্য বর্তমানে ভাড়া করে লোক আনতে হয় বা টোকাইদের ভাড়া করতে হয় বলে তিনি এসময় উল্লেখ করেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে সেতু মন্ত্রী বলেন, যারা ১০ বছরে ১০ মিনিটিও আন্দোলন করতে পারেনা, আন্দোলনের হুংকার দেয়া তাদের শোভা পায়না। তাদের নেত্রী ২ বছর যাবত জেলে অথচ তারা রাজপথে ২ মিনিট টিকতে পারেনা, তাদের দিয়ে আর যাই হোক জনকল্যাণের রাজনীতি সম্ভব নয়। সন্ত্রাস নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে জনকল্যাণে রাজনীতি করার জন্য তিনি এ সময় বিএনপি নেতাদের আহবান জানান।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিয়ে সেতু মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে মেট্টোরেল হবে। কালুরঘাটে দুটি ব্রীজ হবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৪ লেনের হবে। কাজেই আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগই একমাত্র দেশের জন্য কাজ করে।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের নামে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতে যে ন্যাক্কারজনক কান্ড ঘটিয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য। ইতোপূর্বে তারা প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছে। তাদের এমন গর্হিত আচরণ আদালত অবমাননার সামিল। তারা বিচার বিভাগের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি তারা ডাক্তারদের প্রতিও হুমকি দিয়েছে। তাদের এমন আচরণের জন্যই জনগণ বারবার তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। 

সকালে সম্মেলন উদ্বোধন করেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও  শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। দিদারুল আলম এমপি, মাহফুজুর রহমান এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সানি এমপি, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল