বন্দরনগরীর ৭০ লাখ নাগরিকের বিপরীতে পুলিশ মাত্র  সাত হাজার!

বন্দরনগরীর ৭০ লাখ নাগরিকের বিপরীতে পুলিশ মাত্র সাত হাজার!

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-১১: ০৮:২০ পিএম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বসবসরত ৭০ লাখ নাগরিকের নিরাপত্তায় মাত্র সাত হাজার পুলিশ আছে বলে তথ্য দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেছেন, “৪১ বছর আগে যখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্ভব হলো তখন থেকে গত ৪১ বছরে চট্টগ্রাম কতটুকু বদলেছে আর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কতটুকু বদলেছে এটা আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারছেন। ৭০ লক্ষ বসবাসকারির বিপরীতে ৭ হাজার পুলিশ! অর্থাৎ ১ হাজার মানুষের বিপরীতে ১ জন পুলিশ। ১ জন পুলিশ দিয়ে ১ হাজার নাগরিকের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কিভাবে সম্ভব?”

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, “আমরা যদি তাকাই আমাদের আশেপাশের দেশগুলোর দিকে, সেখানে দেখবেন আড়াইশ জনের জন্য একজন পুলিশ, তিনশ জনের জন্য একজন পুলিশ, আন্তর্জাতিক যে স্ট্যান্ডার্ড সেখানে চারশ জনের জন্য একজন পুলিশের কথা বলা হয়েছে। সেই মাইলফলক ছুঁতে আমাদের এখনো অনেক অনেকদুর যেতে হবে।”

জনগনই পুলিশের শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সার্বিক ভাবে বাংলাদেশে পুলিশ ও মানুষের যে অনুপাত সেটা ৮০০ থেকে ৯০০ জনের জন্য একজন পুলিশ। এটি কোনোভাবেই আমরা মনেকরি যথেষ্ট নয়। যে জন্যই আমরা সবসময় আপনাদের কাছেই ফিরে আসি। জনগনই আমাদের শক্তি। এজন্যই আমরা কমিউনিটি পুলিশিং বলি, বিট পুলিশিং বলি।”

তিনি আরো বলেন, “পুলিশিং-এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আপনাদের কাছে আসি। কারণ আমরা মনেকরি, আপনারাই আমাদের বড় শক্তি।”

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, “আমাদের সাধারন যে পুলিশ যারা দিনরাত এ নগরকে শান্তিময় রাখতে অহর্নিশ পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমি তাদেরকে জানাই আজকের এই দিনে মোবারকবাদ, ধন্যবাদ। তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে এ নগরকে নিরাপদ করতে, শান্তিময় করে তোলার জন্য তাদের এই যে প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টার কারনেই এই নগর যেভাবে বড় হচ্ছে, বিভিন্ন স্থাপনা তৈরী হচ্ছে।নিশ্চয়ই নগরে সেই পরিবেশ আছে বলেই নগরায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য সাসটেইনেবল পিস-এর উপর গুরুত্বরারোপ করে তিনি বলেন, “আমরা জানি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রয়োজন হয় সাসটেইনেবল পিসফুলনেশ। আর নগরে সাসটেইনেবল পিসের জন্য প্রয়োজন হয় সাসটেইনেবল সিকিউরিটি। সেই সাসটেইনেবল সিকিউরিটি যাদের দেওয়ার কথা, আমরা অহর্নিশ সাসটেইনেবল পিস দিয়ে যাচ্ছি।”

বিভিন্ন সময়ে পুলিশের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার প্রাককালে আমাদের পূর্বসূরিরা ২৬ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইয়েন্সে সর্বপ্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে অকাতরে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়ে। আমাদের রয়েছে গৌরবজ্জল অতীত। ১৩,১৪,১৫ তে আপনারা দেখেছেন অগ্নি সন্ত্রাস রুখে দিয়েছিলো এই বাংলাদেশের পুলিশ। নিজের বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে। আমরাআমাদের ১৭ জন সহকর্মীকে হারিয়েছি। প্রায় ১ হাজারের বেশি সহকর্মী পঙ্গু অবস্থায় এখনো বিছানায় আছে।”

মাদককে এ দেশ ছাড়া করার প্রতয়ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “২০১৬ তে জঙ্গী দমন করতে গিয়ে আমাদের অনেক সাহসী পুলিশ অফিসার মৃত্যু বরন করেছেন, পঙ্গুত্ব বরন করেছেন। আমরা হার মানিনি। এখন আমরা যুদ্ধ করছি মাদকের বিরুদ্ধে। আমরা আশাবাদী জনগন যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের মত মাদককেও এ দেশ ছাড়া করবো ইনশাআল্লাহ।”

 

ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে পুলিশকে অন্যতম সহযাত্রী দাবি করে তিনি বলেন, “আসুন সেই নিরাপদ বাংলাদেশে, যেখানে থাকবেনা কোনো মাদক, থাকবেনা কোনো সন্ত্রাস, থাকবেনা কোনো জঙ্গীবাদ। সেদিনে আশায় আমরা আজকের বাংলাদেশকে নিয়ে যাই সেদিনে, ২০৪১ এ। যে ভিশন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার অন্যতম সহযাত্রী।”

 

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী,

সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়শা খান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, সিএমপির সাবেক কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, সাবেক কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল