জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়িত রূপ আজকের বিএমএ: প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়িত রূপ আজকের বিএমএ: প্রধানমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-১২-২৯: ০৪:৩৮ পিএম

জাতির পিতার প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এজন্য  নতুন নতুন ডিভিশন গঠন করা হয়। 
তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত, স্বয়ংসম্পূর্ণ, চৌকস এবং পেশাগতভাবে দক্ষ।  

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের প্রশিক্ষণ সমাপ্তি ও অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবসময় সেনাবাহিনীকে যুগোপযোগী দেখতে চাই, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে চাই।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মিলিটারি একাডেমিকে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিতে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এখানে সকল প্রকার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই একাডেমিতে বিভিন্ন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে ক্যাডেটদের কমিশন লাভের সময়কাল দুই বছর থেকে তিন বছরে উন্নীত করা হয়েছে। একটি প্রশিক্ষিত ও আধুনিক সেনাবাহিনী গঠনে এই উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে জাতির পিতা যে মিলিটারি একাডেমির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই সফল বাস্তবায়িত রূপ আজকের এই বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)।

প্রধান আরও বলেন, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং অনস্বীকার্য। এ কারণেই একটি প্রশিক্ষিত, শক্তিশালী ও দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির শুভ উদ্বোধন করেন, যা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকেই সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। এর আওতায় আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন পদাতিক ডিভিশন, ব্রিগেড, ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২০০০ সালে সর্বপ্রথম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে মহিলা অফিসার নিয়োগ এবং ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম মহিলা সৈনিক ভর্তির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মহিলা কর্মকর্তাদের লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি প্রদান এবং কমান্ডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন মহিলা অফিসার কনটিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সেনাবাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। এখন প্রযুক্তির যুগ। আমরা প্রযুক্তির শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমাদের সেনাবাহিনী থাকবে সবসময় যুগোপযোগী ও আধুনিক।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন দেশ, সবাই তাদের প্রশংসা করে।'
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমসহ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যবৃন্দ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার নূরেআলম মিনা, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল