অস্ট্রেলিয়ার দাবানল নেভাতে উড়োজাহাজের লড়াই

অস্ট্রেলিয়ার দাবানল নেভাতে উড়োজাহাজের লড়াই

 ফিচার ডেস্ক
  ২০২০-০১-০৬: ০৬:১৯ পিএম

এভিয়েশনশিল্পের গুরুত্ব কেবল যাত্রীদের আকাশযাত্রার মধ্যেই সীমিত নয়, বিশ্বের নানা সংকটের মুহূর্তে জীবন লক্ষাকারী সেবার জন্যেও এর আলাদা কদর আছে। কখনো বিচ্ছিন্ন কোন শহরের মৃত্যু শয্যাশায়ী রোগী বা উদ্ধার বা অনুসন্ধানের কাজে উড়োজাহাজ দেবদূতের ভূমিকা রাখে।

তেমনি অস্ট্রেলিয়ার দাবানলের বিরুদ্ধেও ভূমিকা রাখছে বেশ কয়েক ধরনের উড়োজাহাজ। স্কাউটিং থেকে শুরু করে ওয়াটার বমবার্সের মত উড়েজাহাজ দেশটির সর্বকালের ভয়াবহ এই আগুন থামাতে সাধ্যের সবটুকুই যেন করে যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই বুশফায়ার বা দাবানল বর্তমানে দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংস করেছে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন হেক্টর জমি। এই আয়তন বেলজিয়ামের সমান বা আয়ারল্যান্ডের অর্ধেক। এর মধ্যে দাবানলটিতে মারা গেছে বনের ৫০ কোটি প্রাণী ও ১৭ জন মানুষ, ধ্বংস হয়েছে ৫০০ টির মত বাড়িঘর।

এই দাবালন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। এই পরিবর্তনের ফলে অস্ট্রেলিয়াতে খরার সৃষ্টি হয়েছে যা থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এটি দাবানল মৌসুমের কেবল শুরু যা এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছড়িয়ে পড়া এই আগুনের সম্মুখভাগ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ । এসব দাবানল জঙ্গল ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের ঘরবাড়িতে যা কেবল অগ্নি নির্বাপক ট্রাক বা মানুষের সাহসী মোকাবেলায় থামানো অসম্ভব ।

এই দাবানল লড়তে উড়োজাহাজগুলো একটু ভিন্ন ও বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করছে। আগুন ছড়িয়ে পড়া দূর্গম স্থানে এসব উড়োজাহাজ যেমন সহজেই উড়ে গিয়ে অগ্নি নির্বাপন করছে তেমনি নতুন করে কোথাও আগুন লাগলে চিহিৃত করতে সহায়তা করছে।

হেলিকপ্টারগুলো বাসাবাড়ি থেকে মানুষজনকে এবং আটকে পড়া আগুন নির্বাপন দলকে উদ্ধারে কাজ করছে। ওয়াটার বমবারগুলো ব্যস্ত আছে সরাসরি আগুন নেভানো এবং মাটিতে আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত সদস্যদের সহায়তায়।

আগুনে নেভাতে বেশি তৎপর অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান দমকল কর্তৃপক্ষের বহরে আছে ১৪৫ টি উড়োজাহাজ, যার বেশিরভাগই হেলিকপ্টার। তাই এই সংস্থাটি জরুরী এই প্রয়োজনে বেশ কিছু বোয়িং ৭৩৭ কে রুপান্তর করে অগ্নি নির্বাপনের কাজে ব্যবহার করছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান দমকল বহর এ বছর তাদের বহরে আরো অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যোগ করার জন্যে জোর দাবী তুলেছিল। তবে দুঃখজনকভাবে, এই নতুন উড়োজাহাজ কেনার ভার অস্ট্রেলিয়ান সরকার আলাদা করে প্রদেশগুলোর উপর চাপিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে।

সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে সাবেক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ কমিশনার গ্রেগ মুলিনস বলেছেন,”ফায়ার বিভাগের যা চাগিদা তাই পান, প্রধানমন্ত্রীর এমন কথা সত্য নয়। নতুন উজোজাহাজ কেনার এই ফাইলটি দুই বছর ধরে টেবিলে পড়ে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার থেকে যদি ফায়ার প্রধানরা ২৫ মিলিয়ন ডলার পেতেন তবে নিশ্চিত করেই আমাদের আকাশে আরও উড়োজাহাজ উড়ত।“

এদিকে এই সংকটের মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের উড়োজাহজ অগ্নি নির্বাপন সহায়তার জন্য কানাডার সাথে যোগাযোগ করছে। তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল অগ্নি নির্বাপক উড়োজাহাজের জন্য জন্য ৮০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছিল যদিও নির্বাচনে যথেষ্ট ভোট না পাওয়ায় তারা জয়ী হতে পারেনি।

তবে এবারের আগুনে আশা করা যাচ্ছে নতুন নতুন অগ্নি নির্বাপক উড়োজাহাজ কেনার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের টনক নড়বে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল