বোয়ালখালীর ভোটে 'ইজ্জত রক্ষা' মোসলেম উদ্দিনের

বোয়ালখালীর ভোটে 'ইজ্জত রক্ষা' মোসলেম উদ্দিনের

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০১-১৪: ০৩:৫৮ পিএম

চট্টগ্রাম ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৮৫ জন। সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫৮১। সে হিসেবে শতকরা ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনভুক্ত ১০১ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শহর আর গ্রাম নিয়ে গড়া এ আসনে প্রায় তিনগুন ভোটার শহরাঞ্চলে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে গ্রামেই সবচেয়ে বেশি ৪৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। বলতে গেলে, গ্রামের ভোটাররাই ‌'ইজ্জত রক্ষা' করেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোসলেম উদ্দিনের।      
এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪৭ বছর পর চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে দলীয় সাংসদ পেলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 

সোমবার (১৩ জানুয়ারী) রাতে চট্টগ্রাম নগরের স্টেডিয়াম জিমনেশিয়ামে রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে এমন তথ্য মিলেছে।

এই আসনে বোয়ালখালী উপজেলার ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৯৩ জন। যার মধ্যে গতকাল ভোট দিয়েছেন ৫৯ হাজার ৫২২ জন। সে হিসেবে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন আহমদ পেয়েছেন ৫১ হাজার ১৭ ভোট। যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

বিপরীতে বোয়ালখালী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার ৫০৪ ভোট। যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে মহানগরের কেন্দ্র গুলোতে তুলনামুলক ভালো করেছে বিএনপি প্রার্থী। ১০১ কেন্দ্র নৌকার প্রার্থীর ৩৬ হাজার ২২৯ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৩১ ভোট। যা মোট প্রদত্ত ভোটের ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

এছাড়া গ্রাম শহর মিলিয়ে মোট ভোটার অনুপাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন পেয়েছেন ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট। অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আবু সুফিয়ান পেয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোসলেম উদ্দিন চট্টগ্রাম২৪কে বলেন, 'আমি গ্রামের ছেলে, বোয়ালখালীর ছেলে। তাই আমার এলাকার মানুষ আমাকে বেশি ভোট দেবে এটাই স্বাভাবিক-প্রত্যাশিত। তবে শহরেও দারুন সারা পেয়েছি।'

এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে পান ১ হাজার ১৮৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চেয়ার প্রতীক দিয়ে পান ৯৯২ ভোট, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত কুঁড়েঘর প্রতীক নিয়ে পান ৬৫৬ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক আপেল প্রতীক নিয়ে পান ৫৬৭ ভোট। 

এর আগে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার নৌকার টিকিট নিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন জাসদ নেতা মইন উদ্দিন খান বাদল। এর আগের সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপি সিরাজুল ইসলাম, মোর্শেদ খান ও জাতীয় পার্টি থেকেও মোর্শেদ খান এমপি নির্বাচিত হন এই আসনে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতা কফিল উদ্দিন প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল