একুশে পদক পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ৩ বিশিষ্ট ব্যক্তি

একুশে পদক পাচ্ছেন চট্টগ্রামের ৩ বিশিষ্ট ব্যক্তি

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০২-০৫: ০৮:২৪ পিএম

এবার একুশে পদকের জন্য ২০ জনকে মনোনীত করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিসরূপ ভূষিত এ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের তিন বিশিষ্ট ব্যক্তি। 

তারা হলেন- গবেষণায় হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার উত্তর ইছাখালি গ্রামে ১৯১৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আল্লামা গোলাম রহমান এছমতী (রহঃ) প্রকাশ বড় হাফেজ কেবলা প্রখ্যাত কামেল অলি ছিলেন। 

মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি পবিত্র কোরআন শরীফ হেফজ করেন। পরে আরবি সাহিত্যের নাহু, বালাগাত, আরবী, ফার্সি উর্দ্দু এমনকি তফসির, ফিকাহ, হাদিছ, হাকিমী বিদ্যা ও রিমিয়া বিদ্যার উপর পাণ্ডিত্য লাভ করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা সরকারী আলিয়া মাদরাসা থেকে টাইটেল পরিক্ষায় হাদিসে বোর্ডের শীর্ষস্থান (প্রথম শ্রেনীতে প্রথমস্থান) অর্জন করেন। পরে চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া ছুন্নিয়া আলিয়া মাদরাসায় প্রথম মুহাদ্দিস হিসাবে যোগদান করেন। 

তিনি অনেক ধর্মীয় বই লিখেছেন। এর মধ্যে ছুন্নি আকিদা ভিত্তিক খোতবাতে রহমানিয়া (আরবী ও বাংলা), সৃষ্টির অদ্বিতীয় বিদ্যার সা্গর, হাজের নাজের নবী দিবাকর, আল ইমাম ফিল মিলাদে ওয়াল কিয়াম, হায় কবরের পথে, ইসলামী পর্দা ও সুন্নি জামাত, ছাত্র-ছাত্রী কালজয়ী মনিষী, কালেমায়ে তৈয়্যোবা, আর রাইদাতুল ওয়াহেদা লিল ফিরকাতিল বাতেলা আরবী ও লন্ডনের ভাষণ ইত্যাদি। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এখনো মাসিক পত্রিকা আসল পথ ও আঞ্জুমান প্রকাশিত হচ্ছে। 

প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ব বৌদ্ধ নেতা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বৌদ্ধ গবেষক। তিনি সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন বুড্ডিস্ট স্টাডিজ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলা সাহিত্যে বৌদ্ধের অবদান নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। 

সমাজসেবায় অবদানের জন্য একুশে পদক পাওয়া পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১২ মার্চ বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলায় রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম সুফি মুহাম্মদ দায়েম উদ্দিন। মাতা রাহেতুন্নেছা। গ্রামের পাঠশালায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয়। গ্রামেরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারত চন্দ্র স্কুল থেকে ১৯৬১ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষ করেন। ১৯৬৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই কলেজে বি.কম ক্লাসে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক পাশ করেন।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন রি-রোলিং মিল। তারপর ১৯৮৪ সালে, মংলা ইঞ্জিনিয়ার্স ওয়ার্কস নামে বিলেট তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন, ওটাই ছিল দেশের প্রথম বিলেট কারখানা। এভাবেই পুরোদস্তুর বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠেন সুফি মিজান।১৯৮৬ সালে ঢাকায় ঢেউটিনের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন, পিএইচপি রানী মার্কা ঢেউটিন। এরপর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দেন সিআর কয়েল কারখানা। এভাবে একের পর এক বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং সফল হন।

সুফি মিজান পারিবারিকভাবে ঢাকার কাঞ্চননগর গ্রামে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন। মাত্র পাঁচ টাকায় সেখানে রোগীদের দেয়া হয় চিকিত্সাসেবা। চট্টগ্রাম শহরের আসকারদীঘি পাড়ে মাউন্ট হাসপাতালসহ শিক্ষার্থীদের স্বল্পমূল্যে উচ্চশিক্ষার জন্য ‘ইউআইটিএস’ গড়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর আরেকটি স্বপ্ন আছে দেশের ভেতর একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করার। 

এর আগে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সুফি মিজান লাভ করেছেন ২০০৩ সালের দ্য ডেইলি স্টার অ্যান্ড ডিএইচএল বেস্ট বিজনেস অ্যাওয়ার্ড, ২০০৭ সালে ব্যাংক বীমা অ্যাওয়ার্ড, ২০০৯ ও ২০১১ সালের ব্যাংক বীমা অর্থনীতি অ্যাওয়ার্ড।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল