‘আমি করবো বিচার, দেখবো কে কার বাপ’- অমিতের ভাইয়ের হুঙ্কার

‘আমি করবো বিচার, দেখবো কে কার বাপ’- অমিতের ভাইয়ের হুঙ্কার

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০১৯-০৬-০১: ০৩:০১ পিএম

চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরীর খুনের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত ও সাঁজানো’ নাটক দাবি করে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তার ছোট ভাই অনিক মুহুরী। এসময় দেশের প্রশাসন যদি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে, সে বিচার নিজেই করা হুঙ্কার দিয়েছেন অনিক মুহুরী।

তিনি বলেন, ‘আসছি, বাংলাদেশ আমি আসছি। আমি আসছি। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার যদি কেউ না করে, প্রশাসন থেকে যদি বিচার না পাই, আমি করবো বিচার। দেখবো কে কার বাপ।’

গতকাল শুক্রবার (৩১) মে বিকালে ভারতে অবস্থানরত অমিত মুহুরীর স্ত্রী নিধি দত্ত চৈতীর ফেসবুক একাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এ কথা গুলো বলেন। ১১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে জানেন বলে ইঙ্গিত করেন। ধারনা করা হচ্ছে কলকাতার কেনো বাড়ির ছাদ থেকে তিনি ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন।

এছাড়া অমিত মুহুরীর কথিত হত্যাকারী রিপন নাথ প্রসঙ্গে তাকে বারবার উপহাস করতে দেখা যায়। ভিডিওতে অনিক মুহুরী বেশ কয়েকবার বলেন, ‘অমিত মুহুরী মারা গেছে। রিপন নাথ অমিত মুহুরীকে মারলো! আচ্ছা! রিপন নাথের চেহারা দেখে বোঝা যায়? অমিত মুহুরীকে মারার ক্ষমতা রিপন নাথের আছে?’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছিলাম না আমার ভাইয়ের কাছে। আমার ভাইকে মেরেছে যে? রিপন নাথ মেরেছে যে আমার ভাইকে? দেখছি আমার ভাইকে শেইভ করা অবস্থায় মেরেছে। আমার ভাই অর্ধেক শেইভ জীবনে করেনি। আমার ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা কখনও শুনেছেন? জেলের মধ্যে মেরে ফেলতে?’

সবগুলো সাঁজানো নাটক :

অনিক মুহুরী লাইভ ভিডিওতে বলেন, ‘আপনারা বলবেন, ‘যে যেরকম করেছে; সে রকম শাস্তি পাবে। হ্যাঁ, আমার ভাই তো শাস্তি পাচ্ছিল দু বছর ধরে জেলের মধ্যে। আপনারা কি ভেতরের ঘটনা জানেন? আমার দাদা জুন মাসের ১১ তারিখ বের হতো। তো? রিপন নাথ অস্ত্র মামলায় জেলের মধ্যে ঢুকেছে নাকি। ওরা নাকি জেলের মধ্যে ঢুকে দাদাকে পিছন থেকে মারা হয়েছে, গা হাতে খুর দিয়ে কাটা হলো আমার দাদাকে। রিপন নাথ মারলো আমার দাদার পিছনে? কে মেরেছে? আপনারা বিচার করুন। আমার দাদা যাকে মেরেছে, শাস্তি পাচ্ছিল তো। ও তো ভুলটা বুঝতে পেরেছিল। ওকে কেন মারা হলো? আমার দাদা কোন দিন অর্ধেক শেইভ করেনি। সবগুলো সাজানো নাটক। অর্ধেক শেইভ করিয়েছে।’

জেলের মধ্যে কি ইটের ব্যবসা হয়? :

অমিত মুহুরী হত্যাকাণ্ডের পর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আরেক বন্দি রিপন নাথের ইটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে অমিত মুহুরীর। কারা কর্তৃপক্ষের সেই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে অনিক মুহুরী লাইভ ভিডিওতে বলেন, ‘ছেলেকে মরা অবস্থায় আমার বাবাকে দিচ্ছে। মারলে গুলি করে মার। এভাবে কেউ মারে? আপনারা সবাই এই ভিডিও শেয়ার করুন। যে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তার বিচার চাই আমরা। তার বিচার করুন। যে মেরেছে, তাকে ঘর থেকে বের করে মারুন। সে অন্যায় করেছে; তাকে শাস্তি দিন। আমার ভাই অন্যায় করেছে, শাস্তি পাচ্ছিল। ওকে মেরে কেন ফেললি? প্রশাসন যখন বলছে, জেলের ভিতর মেরেছে।’ প্রশাসন কেন কিছু বলছে না? জেলের ভিতরে ইট কোথা থেকে আসে? জেলের মধ্যে কি ইটের ব্যবসা হয়? এটার জবাব দাও। এতো বড় নাটক সাজিয়েছো? জেলের মধ্যে সিসি ক্যামেরা থাকে। ক্যামেরা ফুটেজ বের কর। তোমরা প্রশাসন যদি ঠিক থাকো, তাহলে এটার প্রুভ বের করো। কার হাত ছিল এটা বের কর।’

১১ তারিখ মুক্তির কথা ছিলো অমিতের :

ভিডিওতে অনিক মুহুরী দাবি করেন চলতি মাসের ১১ তারিখ অমিত মুহুরী জামিনে ছাড়া পেতেন। সে খবর উপর লেভেলে গেছে। তাই এর আগেই অমিতকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে। অনিক বলেন, ‘আমার ভাই ভালো হয়েছিল। ১১ তারিখ আমরা ভাই বের হতো। এই খবর ওপর লেভেলে গেছে। আমার বাবা আমাদেরকেও বলেনি যাতে কারো কানে চলে যাবে। ১১ তারিখ বের করে ইন্ডিয়া নিয়ে আসতো। কিন্তু কী অপরাধ করলো আমরা দাদা? একটা জেলের মধ্যে এভাবে হত্যা কি করে করে? প্রশাসন কি করছিল তখন? রাতের একটার সময় নাকি আমরা দাদা শেইভ করছে! রাত একটার সময় কেউ শেইভ করতে যায়? রাত একটার সময় কখনো জেলে শেইভ করায়? জেলের মধ্যে শেইভ করার টাইম দুপুর দুটোয়। তার মানে দুপুর দুটোর সময় আমার দাদাকে মেরেছে।’

প্রতিশোধের হুঙ্কার :

নির্দিষ্ট কারো প্রতি ইঙ্গিত করে কারাগারের বাইরে থেকে অমিতকে খুনের পরিকল্পনা হয়েছিল দাবি করে অনিক মুহুরী বলেন, ‘ছয়-সাতজন মিলে পুরো প্ল্যানিং করে আমার দাদাকে মারা হয়েছে। আর যে প্ল্যানিং করেছে, ঘরের মধ্যে বসে বসে, দাঁড়া, ঘরের মধ্যে বসে প্ল্যানিং করে আমার দাদাকে মেরে ফেলবি। নাটক করো? নাটকের দিন শেষ। তুই যেখানে বসে প্ল্যানিং করলি, সেখানে মারা হবে তোকে। অমিতের ছোট ভাইরা আছে। অমিতের ছোট ভাইরা অমিতকে ভালোবাসে। যে ঘরের মধ্যে বসে প্ল্যান করে কোটি টাকা খরচ করে আমার দাদাকে মারিয়েছে, তার বিচার চাই।’ ক্ষোভমেশানো কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আসছি, বাংলাদেশ আমি আসছি। আমি আসছি। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার যদি কেউ না করে, প্রশাসন থেকে যদি বিচার না পাই, আমি করবো বিচার। দেখবো কে কার বাপ। আয়। তুই ঘরে বসে প্রশাসনকে দিয়ে টাকা খাইয়ে আমার ভাইকে মারালি। আপনারা সবাই এটার বিচার করুন। আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। মেরে আমার বাবাকে ফোন করেছে। যখন জান ছিল তখন কেন দেয়নি। আপনার বলুন, জেলের মধ্যে কী করে মারে? বাইরে ক্রসফায়ারে যদি মেরে ফেলতো; তাহলে মনকে বোঝাতে পারতাম।

আমার দাদার সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই রিপন নাথের। ওই ছেলে নাকি আমার দাদাকে মেরে ফেলেছে? কে করিয়েছে সবাই জানে। এটা তদন্ত করা হোক। কে ঘরে বসে আমার দাদাকে মারলো? কোটি টাকা খরচ করলো। তাকে ঘর থেকে বের করে মারা হোক। প্রশাসন তার শাস্তি দিক। আমার বাবা যখন কেইস করতে গেলো, পুলিশ কেইস নিচ্ছে না। পুলিশকে এমনভাবে হাত করে রাখলো- পুলিশ কেইস নিচ্ছে না। আমরা বাবা হাইকোর্টে গিয়ে কেইস করলো। পুলিশ কেইস নিচ্ছে না। আপনারা এটার বিচার করুন।’

এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অমিত মুহুরীর বাবা অরুণ মুহুরীর দাবি করেন, দুই বছর আগে তার নেশাগ্রস্ত ছেলেকে ভালো করার জন্য এক যুবলীগের নেতার সিদ্ধান্তেই পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়া হয় অমিত মুহুরীকে। এরইমধ্যে অন্তত তিনটি মামলায় অমিতের জামিন হয়েছে। আরও দু’টি মামলায় জামিন পেয়ে মাসখানেকের মধ্যে অমিতের মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। গ্রুপের ভেতরকার একটি অংশ কিংবা গ্রুপের বিরোধী প্রভাবশালী কেউ অমিতের মুক্ত হয়ে যুবলীগ নেতার সঙ্গে সক্রিয় হওয়া নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। এ কারণেই বিপুল অঙ্কের টাকা খরচ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিও দেখুন :

চট্টগ্রাম২৪ডটকম/এএস


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল