কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারা মনোনয়ন দিলো? - প্রশ্ন নাছিরের

কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারা মনোনয়ন দিলো? - প্রশ্ন নাছিরের

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৩-০২: ০৬:০২ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিতর্কিতরা মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ  প্রতিক্রীয়া জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, ‘নানা অভিযোগ থাকার পরেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারা মনোনয়ন দিয়েছেন? কারা নেত্রীকে কোণঠাসা করেছেন?’

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রামে যুবলীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য তিনি এসব প্রশ্ন তোলেন।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমরা জড়িত নই, আমরা কিছু জানি না। নানা অভিযোগ থাকার পরেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কারা মনোনয়ন দিয়েছেন? কারা নেত্রীকে কোণঠাসা করেছেন? তারা কি জেনেশুনে করেছেন? নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য কারা এসব করেছেন? যারা করেছেন একবারও কি সংগঠনের কথা ভেবেছেন?’

দলের মনোনয়নের আগে তাকে ঘিরে চালানো অপপ্রচারের জবাব দিয়ে বলেন, ‘১৯৬৯ সালে আমি চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় দেশের মুক্তি আন্দোলনের মিছিলে শামিল হয়েছিলাম। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে নির্মমভাবে হত্যা করার সময় চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলাম। ৭৬ এর জানুয়ারি মাসে প্রথম মাত্র পাঁচজনকে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে মিছিল করেছি।  জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়েছি।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন নিয়ে চড়ম অসন্তোষ বিরাজ করছে আওয়ামী লীগে। বাদ পড়াদের অনেকে যেমন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন; তেমনি মনোনয়ন পাওয়া কারো কারো বিরুদ্ধে ভুয়া দলীয় পদ ব্যবহার করে, প্রার্থিতা বাগানোর অভিযোগ আছে। এ নিয়ে সর্বপ্রথম জাগোনিউজ ‘আওয়ামী লীগের ‘ভুয়া’ উপদেষ্টা পেলেন কাউন্সিলর মনোনয়ন!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করলে সারাদেশে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্ম হয়।

সেসময় মৃত্যুকে পরোয়া না করেই রাজনীতি করেছেন জানিয়ে নাছির বলেন, ‘আমাকে অনেকবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার তো বেঁচে থাকার কথা নয়, তবুও বেঁচে আছি। আমি যে বেঁচে আছি তা জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে লড়েছি,ফ্রিডম পার্টি, জামায়াত-শিবিরকে উৎখাত করেছি। তা কি নেতৃবৃন্দ অস্বীকার করতে পারবেন?’

সিটি মেয়র বলেন, ‘সুন্দর বক্তব্য দিয়ে, সুন্দর কথা বলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। আমি অন্তরে কী ধারণ করি, বাস্তবে কী ভাবি সেটাও বিবেচ্য বিষয়। আমি যদি সুন্দর কথা বলি আর অসুন্দর কাজ করি তাহলে মানুষের আস্থা অর্জন করা যাবে না।’

যুবলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সংগঠনে এখন আছি তারা একদিন সরে যাবো। আমাদের সরে যাওয়ায় কাল্পনিক শূন্যতা তৈরি হবে। এ পদগুলো পূরণ করবেন আপনারা। তাই আপনাদের সুশৃঙ্খল হতে হবে।’

বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল, যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান আতা ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল