চট্টগ্রাম শুধু ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, পৃথিবীর অনেক দেশের বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান: সিআইটিএফ উদ্বোধনীতে বাণিজ্য মন্ত্রী

চট্টগ্রাম শুধু ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, পৃথিবীর অনেক দেশের বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান: সিআইটিএফ উদ্বোধনীতে বাণিজ্য মন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৩-০৫: ০৯:৩০ পিএম

চট্টগ্রাম চেম্বারের আয়োজনে শুরু হয়েছে ২৮তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) নগরীর রেলওয়ে পোলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি সহ অতিথিবৃন্দ ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করেন।
চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন-চট্টগ্রাম শুধু ব্যবসায়িক কেন্দ্র নয়, ব্যবসায়ীদের জন্য সেন্ট্রাল পয়েন্ট ও পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য বিনিয়োগের উপযুক্ত স্থান। উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায়। কাজেই চট্টগ্রামকে আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি চট্টগ্রামের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। বাংলাদেশের অনেকগুলো অর্থনৈতিক অর্জন রয়েছে। বর্তমানে প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশ। পৃথিবীর এক নম্বর সোয়েটার ফ্যাক্টরী আমাদের দেশে অবস্থিত উল্লেখ করে প্রতিটি জেলায় কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাই মিলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। 
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, এম. এ. লতিফ এমপি, এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান। বক্তব্য রাখেন, চেম্বার পরিচালক ও সিআইটিএফ-২০২০ এর চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ। 
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি কিভাবে বিজনেস আরম্ভ করা যায়, এলসি খোলা, ব্যাংক একাউন্ট, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে তরুণ উদ্যোক্তাদে জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে চিটাগাং চেম্বারের প্রতি অনুরোধ জানান। শিক্ষা উপমন্ত্রী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে সকল পর্যায়ে কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালু করা হবে জানিয়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। 

এম. এ. লতিফ এমপি চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীদের জন্য কনভেনশন হল, প্রদর্শনী  ও বাণিজ্য মেলা আয়োজনের লক্ষ্যে স্থায়ী ভেন্যুর ব্যবস্থা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। ডীপ সী পোর্ট, এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল, পতেঙ্গা ও মুরাদপুর কন্টেইনার টার্মিনালসহ অনেক বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বৃহত্তর চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে জনসংখ্যাকে প্রয়োজনে বিদেশী প্রশিক্ষক এনে যথাযথ কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জনশক্তিতে রূপান্তর করার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রতিটি স্কুল-কলেজে কারিগরি শিক্ষা চালু করার প্রস্তাব করেন। এম. এ. লতিফ এমপি চেম্বারের উদ্যোগে সম্প্রতি গঠিত বাংলাদেশ সেন্টার অব এক্সিলেন্সের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের বিভিন্ন স্তরের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে জানান।   

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন-বঙ্গবন্ধুর স্বল্প সময়ের শাসনামলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে ৯% জিডিপি অর্জন হয় যা এদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯% নির্ধারণের ফলে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস অনেকটা হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আসন্ন রমজানে ভোগ্যপণ্যের মূল্য যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেজন্য খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী ও চিটাগাং চেম্বারকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। 

সিএমপি কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বলেন-খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজার দেশের ব্যবসায়ীদের প্রধান কেন্দ্র। দেশের নিরাপত্তা ব্যাহত হলে এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন। আইন-শৃংখলা বাহিনী দিবা রাত্রি দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রামে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে বলে জানান। 

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-আগে ছোট পরিসরে বাণিজ্য মেলা শুরু হলেও বর্তমানে অনেক বড় পরিসরে চিটাগাং চেম্বার মেলা আয়োজন করে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই মেলায় দেশীয় পণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পরিচিতি লাভের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। তিনি জাতীয় বাজেটের ৩৫% অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় চট্টগ্রামে করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। চেম্বার সভাপতি কর্ণফুলী টানেলসহ বড় বড় প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে শেষ করা, বে-টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা, মিরসরাই ইকনোমিক জোনে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। 
অনুষ্ঠানে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন ট্রেডবডি নেতৃবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিসহ নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মাসব্যাপী এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রতিদিন সকাল ১০.০০ টা থেকে রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত চলবে। 
 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল