দুই বছর পর মুক্ত খালেদা জিয়া

দুই বছর পর মুক্ত খালেদা জিয়া

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৩-২৫: ০৪:১৭ পিএম

অবশেষে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। দুই বছর এক মাস ১৬দিন কারাভোগের পর বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে   বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে তিনি মুক্তি পান। 
মুক্তির পর খালেদা জিয়াকে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। 

এ সময় তার গাড়ি ঘিরে ছিলো শত শত নেতা-কর্মী। নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে গাড়ী সামনে এগুতে প্রচন্ড বেগ পেতে হয়। 

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া, জিয়া অরফঅনেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির দুটি মামলায় তাকেঁ পাঁচ বছরের সাজা দেয়। সরকারের দেয়া শর্তের ভিত্তিতে তিনি মুক্তি পেলেন। 

এর আগে বিকেল পৌনে ৩টায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাসায় নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পৌঁছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।
খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং বোন বেগম সেলিনা ইসলামও হাসপাতলে পৌঁছেছেন।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়া আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাড়া পাবেন।

খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। এদিন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক তার বাসায় সংবাদ ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান। এ সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

মুক্তি পেলেও খালেদা জিয়াকে বেশ কিছু শর্ত পালন করতে হবে উল্লেখ করে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাঁকে ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে তাঁর চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে। এই সময় দেশের বাইরে গমন না করার শর্তে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি।’

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেন, মানবিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি তার ছোটভাইয়ের জিম্মায় থাকবেন। এ সময় তিনি কেন রাজনীতি করবেন?
 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল