চট্টগ্রামে করোনা আতঙ্কে পত্রিকা বিলি বন্ধ রেখেছে হাকাররা

চট্টগ্রামে করোনা আতঙ্কে পত্রিকা বিলি বন্ধ রেখেছে হাকাররা

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৩-২৬: ০১:৫১ পিএম

বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পরা ঘাতকব্যধি করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে আছে সবাই। সরকার ঘোষিত ১০ দিনের লকডাউনে অতি জরুরী কাজ ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। সেই আতঙ্কে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকে সব ধরনের পত্রিকা বিলি বন্ধ করে দিয়েছে চট্টগ্রামের হকাররা।

সকাল ৮ টার দিকে নগরের চেরাগী পাহাড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের এলাকায় নেই শোরগোল। পত্রিকা গোছানোর সেই তোরজোর, চারদিকে শুনশান নিরবতা। পাশের চা দোকানীরা জানালো, আজ পত্রিকা নিতে হকাররা তেমন একটা আসেননি। যারা এসেছিলেন তারাও দ্রুত চলে গেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‌‘আমরা সাংঘটনিক ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি, কিন্তু সকাল থেকে অধিকাংশ হকাররা কাজে যোগ দেননি। এ কারণে চট্টগ্রামে লক্ষাধিক পিস দৈনিক পত্রিকা অবিকৃত অবস্থায় পরে আছে।’

সংগঠনের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের আওতায় হকার আছেন ২৫০ জনের উপরে। এছাড়া পুরো শহের এমন হকারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। আজ সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পত্রিকা নিয়ে গেছে। দেশের জাতীয় পত্রিকা গুলোর প্রায় ১ লক্ষ পিস আমরা বিলি করি। এর বাইরে চট্টগ্রামের আজাদী ৪০ হাজার ও পূর্বকোন বিলি হয় ৪০ হাজার। জাতীয় পত্রিকার অধিকাংশ গোডাউনে রয়ে গেছে, আজাদী ও পূর্বকোনের হিসেবটা তারা বলতে পারবেন।’

তিনি বলেন, আমরা হকারদের জীবন জীবিকা নিয়ে চিন্তিত। পত্রিকা মালিকরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এ নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা চালিয়ে যাচ্ছি। দেখি হকারদের জন্য কিছু করা যায় কিনা।

এছাড়া আজ বৃহস্পতিবার থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত সব দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক ও সাময়িকপত্র সরবরাহ, গ্রহণ ও বিলি-বণ্টন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহীর এজেন্ট ও হকাররা।

এদিকে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে। পত্রিকার হকাররা মাস্কের সঙ্গে গ্লাভস বা দস্তানা হাতে কাগজ বিলি, রাস্তায় ফেলে বিক্রি না করার ব্যবস্থা করলে সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

বিশ্বের শীর্ষস্তরের বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকরা বলছেন, বিশ্বের যেসব দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত সংবাদপত্র, ছাপা পত্রপত্রিকা বা চিঠি থেকে কভিড-১৯ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। শুধু খবরের কাগজ নয়, ডাকে পাঠানো বা অনলাইনে অর্ডার করা পণ্যের প্যাকেট নিয়েও আশঙ্কার কিছু দেখছে না ডব্লিউএইচও।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল