করোনা ঠেকাতে এম.পি লতিফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

করোনা ঠেকাতে এম.পি লতিফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৩-৩১: ০৮:০১ পিএম

চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচে' জনবহুল এলাকা বন্দর ও পতেঙ্গা। যেখানে রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড), কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা। যেখানে অবিরত বিদেশীদের আনাগোনা। 
এসব কারণে চট্টগ্রামের ওই এলাকা বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সবচে' ঝুঁকিতে রয়েছে। যা স্বীকার করেন, খোদ চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকাটি চট্টগ্রামের সবচে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। যেখানে বাস করেন হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী। বন্দর ও ইপিজেড কেন্দ্রীক উচ্চ পর্যায়ের মানুষজনের যাতায়াত এই এলাকায়। 

দেশের গুরুত্বপূর্ণ  এবং ঘনবসতীর  ওই এলাকার মানুষকে করেনাভাইরাসমুক্ত  রাখার উদ্যোগ নেন স্থানীয় সাংসদ। এ লাকার কোথাও কারও যদি করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়, দ্রুত তাকে যেন সবার থেকে আলাদা করা যায় সেজন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। 

 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এম এ লতিফ এমপি জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় রয়েছে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, চট্টগ্রাম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (সিইপিজেড), কর্ণফুলী এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা। তিনি বলেন, এই এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ। এখানে এক একটি ভবনে শত শত শ্রমিক বসবাস করেন। তাদের কারো মধ্যে যদি এই ভাইরাসের লক্ষণ বা সংক্রমন দেখা দেয়, তা দ্রুত অন্যদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। এজন্য কারো মধ্যে করোনার প্রাথমিক লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলে তাকে আলাদা করা হবে। রাখা হবে কোয়ারেন্টাইনে। 

এম.এ.লতিফ এমপি জানান, তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে তার নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চারটি অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করেছেন। তার নির্বাচনী এলাকায় ২৭ নং ওয়ার্ডের আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, ৩৮ নং ওয়ার্ডে হালিশহর মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়, ৪০ নং ওয়ার্ডে পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩০ নং ওয়ার্ডে বাংলাদেশ রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে এসব কেয়ারেন্টাইন করা হয়। সংশ্লিস্ট বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এই চারটি অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ১০০টি শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে রাখা হয় সব সুযোগ-সুবিধা। চিকিৎসক, নার্স এবং স্বেচ্ছা সেবকরা কোয়ারেন্টাইনে থাকা লোকজনের দেখভাল করবে। তিনি বলেন, এলাকাবাসী এসকল কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে সঠিক চিকিৎসার পদক্ষেপ নিতে পারবেন। 

পরিস্থিতি সাপেক্ষে এ ব্যবস্থা আরো কয়েকগুন বৃদ্ধির প্রস্তুতিও তাঁর রয়েছে বলে এম.এ.লতিফ এমপি জানান। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ এর কোয়ারেন্টাইন সেন্টার আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম.এ. লতিফ এমপি বলেন- এই ভাইরাস সংক্রমন থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার নির্বাচনী এলাকায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর দুইটি রপ্তানি প্রক্রিয়া জাতকরন অঞ্চল অবস্থিত হওয়ায় যথেষ্ট পরিমান বিদেশী নাগরীকের সমাগম রয়েছে। তাছাড়া আমার নির্বাচন এলাকা দেশের শ্রমিক অধ্যুষিত অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এই ভাইরাসের সংক্রামনের ঝুকি ও এখানে বেশি। আমি মনে করি এই স্বেচ্ছায় অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবতার প্রয়োজনে আমার এ প্রচেষ্টা এলাকাবাসী তথা দেশবাসীকে রক্ষার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তিনি দেশবাসীকে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে অবস্থান করার আহবান জানান। জ্বর ও সর্দি কাশি হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের বাঁচাতে পরীক্ষা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় এই কোয়ারেন্টইন সেন্টারের অবস্থান করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানান। 

এই সময় আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কুমার দত্ত, স্বাধীনতা নারী শক্তির পরিচালক অধ্যাপিকা বিবি মরিয়ম, ইউনিটনেত্রী শাহিনুর আক্তার এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন। 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল