চট্টগ্রাম বন্দর : করোনা ঝুঁকিতে কর্মরতদের প্রণোদনার সুপারিশ

চট্টগ্রাম বন্দর : করোনা ঝুঁকিতে কর্মরতদের প্রণোদনার সুপারিশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৫-১০: ১২:৫৩ পিএম

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কর্মরত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুই মাসের মূল বেতন প্রণোদনা হিসেবে চাওয়া হতে পারে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকারি সাধারণ ছুটি চলাকালেও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে বন্দর কর্তৃপক্ষ অপারেশনাল কাজ ২৪ ঘণ্টা সচল রেখেছিলো। এ কারণেই আমদানিকারকরা কনটেইনার ডেলিভারি না নেওয়া সত্ত্বেও কনটেইনার জট নিরসন করে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা সম্ভব হয়েছিলো।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুর রশিদ। সদস্য উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম, পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, প্রধান নিরীক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম, সচিব মো. ওমর ফারুক, সিবিএ সভাপতি মো. আবুল মনছুর আহম্মদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক।

মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক বলেন, বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম গত ৫ এপ্রিলে এক দফতরাদেশে প্রণোদনার প্রতিবেদন পেশ করার জন্য কমিটি গঠন করেছেন। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটির সবাই একটি সভাও করেছি।

কমিটির একজন সদস্য বলেন, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশ, চিকিৎসকসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের করোনাকালে কী কী প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। বন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিতদের জন্য প্রধানত ২ মাসের বেসিক বেতন প্রণোদনা হিসেবে চাওয়া হতে পারে। এরপর মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে যতটুকু দেয়।

প্রণোদনার কমিটি গঠনে বন্দরের কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। নৌ প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মী বাংলানিউজকে বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন আড়াইশ’ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে, কর্ণফুলী পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসতে হচ্ছে। দেশি-বিদেশি নাবিক, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চালক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বার্থ অপারেটর শ্রমিকসহ হাজারো মানুষের মিলনমেলা বন্দরের ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও জেটিগুলো। করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কাজ করছি আমরা। ইতিমধ্যে বন্দরের একজন কর্মী মারা গেছেন করোনাভাইরাস পজেটিভ হয়ে। এ অবস্থায় প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় সবাই খুশি।

এর আগে বন্দরের ১৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা বন্দর দিবসে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির সাফল্যের সূত্রে বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা করে এককালীন প্রণোদনা পেয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১ দিনের বেতন দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এপ্রিল মাসের বেতন থেকে বন্দরের প্রায় ৬ হাজার কর্মীর ১ দিনের বেতন বাবদ ২৯ লাখ ৪২ হাজার ২০৪ টাকা তহবিলের হিসাবে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এর আগে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বন্দরের তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল