গতিপথ বদলাচ্ছে সুপার সাইক্লোন, দক্ষিণাঞ্চল ও কলকাতায় মূল আঘাত

গতিপথ বদলাচ্ছে সুপার সাইক্লোন, দক্ষিণাঞ্চল ও কলকাতায় মূল আঘাত

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৫-১৯: ০২:৩০ এএম

বার বার গতিপথ বদল করছে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। দিন কয়েক আগে এর গতিপথ ছিল সোজা চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে। কিন্তু সোমবার আম্ফান তার গতিপথ বদলাতে শুরু করে। 

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য ও ম্যাপ বলছে, সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়ার পর আম্ফান তার গতিপথ বার বার বদল করছে। সোমবার সকালের দিকে আম্ফান এগুচ্ছিল চট্টগ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে। সোমবার রাতে আরেকদফা দিক পরিবর্তন করে। এবার তার গতিপথ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। যেখানে আছে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, ঢাকা থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ। এসব এলাকায় ঝড়টি তার পূর্ণগতি নিয়ে আঘাত করবে, এমন তথ্য দিচ্ছে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর। চট্টগ্রাম উপকূলে এর আঘাত হবে মাঝারী পর্যায়ের।

সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত আম্ফান ঘন্টায় ২২০কিমি (১৩৭ মাইল) গতিবেগের একটি সুপার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের আন্তর্জাতিক আবহাওয়াবিদ জেসন নিকোলসের মতে, ১৯৯৯ ওড়িশা ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে আম্ফান বঙ্গোপসাগরে প্রথম সুপার ঘূর্ণিঝড়। ১৯৯৯ সালে সেই ঘূর্ণিঝড়টি ঘন্টায় ২৬০ কিমি (১৬০ মাইল) গতিতে বয়ে গিয়েছিল।

মঙ্গলবার এটি উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে এগুতে শুরু করে। আম্ফান তার এই তীব্রতা নিয়েই এগুবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সীমান্তের নিকটবর্তী স্থলভাগ অতিক্রমের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের মূল আঘাত হবে কলকাতায়।

আম্ফান উপকূলে আচড়ে পড়ার আগে কিছুটা দুর্বল হওয়ার আশা করা হলেও, এখনও একটি বিপজ্জনক ঝড় হয়ে আছে। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কোন এলাকায় মূল আঘাত হানবে এই সুপার সাইক্লোন আম্ফান।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সোমবার আম্ফান ২৭০ কিলোমিটার (১৬৫ মাইল) গতিবেগে বয়ে চলেছিল। এটি বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঝড় হিসাবে রেকর্ড তৈরী করেছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফানকে হারিকেন ৫ এর সমতুল্য ঝড় বলেও উল্লেখ করে সিএনএন।


সোমবার রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আম্পান সোমবার রাত ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে ২০২০ শেষরাত হতে ২০ মে ২০২০ বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা,পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল