চট্টগ্রাম আপাতত রক্ষা, আঘাত হবে 'কিছু'

চট্টগ্রাম আপাতত রক্ষা, আঘাত হবে 'কিছু'

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৫-২০: ১০:৪৩ এএম

দফায় দফায় গতিপথ বদলের কারণে সুপার সাইক্লোন আম্ফান এর আঘাত থেকে এবার রক্ষা পেলো চট্টগ্রাম। দিন কয়েক আগেও সুপার সাইক্লোনখ্যাতি পাওয়া আম্ফান এর চোখ ছিল চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে। কিন্তু সোমবার আম্ফান তার গতিপথ বদলে এগুতে থাকে উত্তর-উত্তর পশ্চিমের দিকে। ফলে ঝড়টির মূল চোখ এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে। 

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য ও ম্যাপ বলছে, সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়ার পর আম্ফান তার গতিপথ বার বার বদল করছে। সোমবার সকালের দিকে আম্ফান এগুচ্ছিল চট্টগ্রাম থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে। সোমবার রাতে আরেকদফা দিক পরিবর্তন করে। মঙ্গলবার চূড়ান্ত গতিপথ ঠিক করে নেয় আম্ফান। তথ্য উপাত্ত বলছে, সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড়টি আজ বুধবার দুপুর বা বিকেল নাগাদ আঘাত করতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। তবে বাংলাদেশের সুন্দরবন, সাতক্ষীরা, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল। যেখানে  এসব এলাকায় ঝড়টি তার পূর্ণগতি নিয়ে আঘাত করবে, এমন তথ্য দিচ্ছে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর। দুইদিন আগে চট্টগ্রাম উপকূলে এই ঝড়ের আঘাতের মাত্র ছিল মাঝারী পর্যায়ের। কিন্তু সর্বশেষ আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষন বলছে, চট্টগ্রামে এর আঘাত হবে ‌'কিছু' মাত্র। বলা যায় এই যাত্রায় বেঁচে গেল বৃহত্তর চট্টগ্রাম।

আরও পড়ুন- চট্টগ্রামের দিকে চোখ, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে আম্ফান

সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পর্যন্ত আম্ফান ঘন্টায় ২২০কিমি (১৩৭ মাইল) গতিবেগের একটি সুপার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের আন্তর্জাতিক আবহাওয়াবিদ জেসন নিকোলসের মতে, ১৯৯৯ ওড়িশা ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে আম্ফান বঙ্গোপসাগরে প্রথম সুপার ঘূর্ণিঝড়। ১৯৯৯ সালে সেই ঘূর্ণিঝড়টি ঘন্টায় ২৬০ কিমি (১৬০ মাইল) গতিতে বয়ে গিয়েছিল।

মঙ্গলবার এটি উত্তর-উত্তর-পূর্ব দিকে এগুতে শুরু করে। আম্ফান তার এই তীব্রতা নিয়েই এগুচ্ছে।আম্ফান উপকূলে আচড়ে পড়ার আগে কিছুটা দুর্বল হওয়ার আশা করা হলেও, এখনও একটি বিপজ্জনক ঝড় হয়ে আছে। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কোন এলাকায় মূল আঘাত হানবে এই সুপার সাইক্লোন আম্ফান।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সোমবার আম্ফান ২৭০ কিলোমিটার (১৬৫ মাইল) গতিবেগে বয়ে চলেছিল। এটি বঙ্গোপসাগরে একটি শক্তিশালী ঝড় হিসাবে রেকর্ড তৈরী করেছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফানকে হারিকেন ৫ এর সমতুল্য ঝড় বলেও উল্লেখ করে সিএনএন।

আরও পড়ুন- গতিপথ বদলাচ্ছে সুপার সাইক্লোন, দক্ষিণাঞ্চল ও কলকাতায় মূল আঘাত

আবহাওয়া অধিদফতর বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানায়, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্ফান সুন্দরবনের কাছ দিয়ে আজ বুধবার (২০ মে) বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আম্ফান দেশের ৩৯০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে। ফলে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। 

ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাগুলো এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ (২০ মে) সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে (২০ মে) বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের নিকট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল