চমেক ও হলি ক্রিসেন্টে করোনা চিকিৎসা শুরু, শয্যা বাড়লো ২০০

চমেক ও হলি ক্রিসেন্টে করোনা চিকিৎসা শুরু, শয্যা বাড়লো ২০০

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৫-২১: ০৭:৪৩ পিএম

চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও। শুধু গত পাঁচদিনে শনাক্ত হয়েছে ৩৭২ জন। গতকাল একদিনেই সর্বোচ্চ ২৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় সীমিত আয়োজনে নগরবাসীর করোনা চিকিৎসার কী হবে সে প্রশ্ন উঠছে। তবে আশার কথা কথা হলো আজ নতুন করে প্রায় ৪০০ রোগীর সেবা দানে সক্ষম দুটি হাসপাতাল চালু হয়েছে চট্টগ্রামে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন , বিভাগীয় কমিশনার একে আজাদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির ও সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বিসহ বিএমএ নেতারা।

 

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষন ও আইসোলেশন ইউনিট মিলিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আলাদা একটি ব্লকে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ব্লক তৈরি করে চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু হয়েছে। শুরুতে ১০০ শয্যার পাশাপাশি ১০টি আইসিইউ শয্যা দিয়েই করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার শুরু করা হলো। তবে প্রয়োজনে ৩০০ শয্যার ব্যবস্থা করাও কঠিন হবে না চমেকের পক্ষে।’

 

এদিকে চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় নতুন আঙ্গিকে চালু করা হয়েছে ১০০ শয্যার হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। এতে ১১টি আইসিইউ বেডসহ সেন্ট্রাল অক্সিজেন, এসডিওসহ আনুষঙ্গিক সব সুযোগ সুবিধা থাকছে।

 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ইউনিট-২ হিসেবে পরিচালিত হবে। রোস্টার করে এখানে সরকারিভাবে চিকিৎসক, নার্স ও জনবল কাজ করবে। ইতোমধ্যে এখানে ২০ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো বেশ কিছু ওয়ার্ডবয়, নার্স, স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে তাদের কর্মস্থলে যোগদান করেছে। হাসপাতালটি একজন সহকারী পরিচালক বা তত্ত্বাবধায়কের অধীনে পরিচালিত হবে।’

 

এর আগে চট্টগ্রামে করোনা সংকট শুরুর পর থেকে গত দুই মাসে নগরের বেসরকারি হাসপাতালের কোনোটিকেই করোনারোগীদের চিকিৎসার জন্য রাজি করানো যায়নি।

বিকল্প হিসেবে পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে সংস্কার করে দেন তারা। কিন্তু এই হাসপাতালের পরিচালনা নিয়ে আবার দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ায় এতদিন করোনারোগীর চিকিৎসা শুরু করা যায়নি সেটিতেও। সর্বশেষ হাসপাতালটিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

 

বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতলে  জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউসহ ১১০ শয্যা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজের (বিআইটিআইডি) ৩০ শয্যা এবং বেসরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত হওয়া চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের ৫০ শয্যাসহ মোট ২২০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন করে আজ আরো অন্তত ৪০০ রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা হলো হাসপাতাল দুটিতে করোনা চিকিৎসা শুরু হওয়ায়।


ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘চমেকের পাশাপাশি ১০০ শয্যার হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালও খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেলওয়ে হাসপাতাল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জেনারেল হাসপাতাল ও বন্দর হাসপাতাল। এসব হাসপাতালের প্রতিটিতে ১০০টি করে সিট রয়েছে। তাই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সমস্যা হবে না। ইতোমধ্যে আমরা নতুন চিকিৎসকও পেয়ে গেছি। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক এবং পদায়নের জন্য অপেক্ষমাণ প্রয়োজনীয়সংখ্যক নার্স নিয়োগ করলে এসব স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যাবে। তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল