হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ

হালদায় রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছেড়েছে মা মাছ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৫-২২: ০৯:০২ পিএম

রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে মা-মাছ ডিম ছেড়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রকৃতি ফিরে পাচ্ছে তার হারানো শক্তি। গত বারো বছরে এবার মাছের ডিমও পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ।  ফলে শুক্রবার সকাল থেকে হালদা নদীতে উৎসবে মেতে উঠে ডিম আহরণকারীরা।

প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে   প্রবল বৃষ্টি, মেঘের গর্জন, পাহাড়ি ঢল, আমাবশ্যা কিংবা  পূর্ণিমার তিথিতে  প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র   হালদা নদীতে    মা-মাছ     ডিম ছাড়ে। এবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে    বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল    ও জোয়ারের পানি   ব্যাপক বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নমুনা ডিম ছাড়লেও  শুক্রবার সকাল থেকেই  পুরোদমে ডিম ছাড়ে  মা-মাছ। এতে হালদা পাড়ের ৬শ ১৫জন ডিম সংগ্রহকারী   ২৮০টি নৌকা ও জাল নিয়ে   সারাদিন ডিম সংগ্রহ করে।  এবার সবচেয়ে  বেশি ডিম সংগ্রহ করতে পেরে খুশি তারা। 

করোনা পরিস্থিতিতে  কোনো কোনো ক্ষেত্রে  প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য    ফিরে আসতে থাকায়    এবার ডিমের পরিমাণ  বিগত ১২বছরের রেকর্ড   ভঙ্গ হয়েছে  বলেছেন    বিশেষজ্ঞরা। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন,  চবি হালদা রিসার্চ ল্যাব, মৎস্য অধিদফতর ও উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফের তিনটি টিম এবার মা-মাছের ডিম সংগ্রহের কর্মযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেছে। আমাদের সম্মিলিত হিসাবে ২৮০টি নৌকায় ৬১৫ জন ডিম সংগ্রহকারী এবার মাছের ডিম সংগ্রহ করেছেন। সব মিলে তারা এবার ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি মাছের ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। যা গত ১০-১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সংগ্রহিত ডিমগুলো থেকে  পোনা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে নানামুখি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে,  জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।  

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা লাভলি বলেন, হালদা নদীর  পশ্চিম গহিরা, অংকুরী ঘোনা, আজিমের ঘাঁট, সত্তারহাট, মাদার্শা, মদুনাঘাট সহ বিভিন্ন পয়েন্ট  থেকে   ডিম    সংগ্রহ করা হয়।  প্রাথমিক হিসেব মতে   এবার  ২৫ হাজার ৫ শত ৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান  চার সংস্থার   যৌথ  সার্ভে কমিটি।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল