রোগী ফিরিয়ে দিলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

রোগী ফিরিয়ে দিলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৬-১২: ০৬:৩০ পিএম

চিকিৎসা না দিয়ে রোগী ফিরিয়ে দিলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। 
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চট্টগ্রামে করোনা রোগীদের চিকিৎসা বঞ্চিত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা না দিয়ে রোগী ফিরিয়ে দেওয়া কোন ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যারা এমন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব নিয়ে শনিবার থেকে চট্টগ্রামে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তা তদারকি করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। 

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাইফ পাওয়ার টেক লিমিটেড কর্তৃক করোনা রোগীদের জরুরী চিকিৎসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তফা খালেদ আহমদ, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

 

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই বাজেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আট দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। পত্রপত্রিকায় দেখলাম এত বেশি লক্ষ্যমাত্রা কেন স্থির করা হলো তা নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে।। ক’দিন আগে আইএমএফ বলেছে যদি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং বৈশিক মন্দাও যদি সহসা কেটে যায় তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নয় শতাংশের বেশি হতে পারে। এটি হচ্ছে আইএমএফ এর প্রাক্কলন। সুতরাং সেটি যদি বিবেচনায় নিই তাহলে ৮.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চয়ই উচ্চাভিলাষী নয়।
 
তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষ থাকতে হয়, উচ্চাভিলাষ না থাকলে অভিলাষ পুরণে জাতির কোন তাগাদা থাকেনা। ব্যক্তি জীবনে যেমন অভিলাষ নাথাকলে সেই মানুষের লক্ষ্যে পৌঁছানোর কোন তাগাদা থাকেনা। রাষ্ট্রিয় জীবনেও লক্ষ্য থাকতে হয় অভিলাষ থাকতে হয়। তাহলেই জাতি এগিয়ে যায়। যেভাবে গত ১১ বছর ধরে সেই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে গেছে সমৃদ্ধি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপুরণের পথে।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এই করোনা ভাইরাসের মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী একটি সাহসী বাজেট ঘোষণা করেছেন। পত্রপত্রিকায় অনেক মন্তব্য ও বিশ্লেষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। অনেক বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দিচ্ছেন। এদের কিছু চিহ্নিত বিশেষজ্ঞ আছে। তারা সবসময় মতামত দেন। গত ১১ বছর ধরে যখনই বাজেট ঘোষণা হয়েছে ততবারই সিপিডি কোনদিন বাজেটের প্রশংসা করতে পারেনি। প্রতিবারই তারা বলেছেন এই বাজেট উচ্ছাকাঙ্খি, এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়।
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিন্তু গত ১১ বছরের আমরা যদি হিসেব নিয়ে থাকি তাহলে দেখতে পায় প্রতিবার বাজেট ৯৩ থেকে ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এইবারও তাদের একই কথার ধারাবাহিকতা আমরা লক্ষ্য করছি। একইভাবে তারা সমালোচনা করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে এধরণের উচ্চাভিলাষি বাজেট কেন দেয়া হলো। এধরণের কথাবার্তা তারা বলছে।
 
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যদি উচ্চাভিলাষ না থাকে যদি আশা না থাকে, যদি লক্ষ্য না থাকে তাহলে সেই লক্ষ্য পুরণের তাগাদাও থাকেনা। ১১ বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য ছিল, আমরা সেই লক্ষ্য পুরণ করেই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। দারিদ্রের হার যেটি ৪০ শতাংশের বেশি ছিল সেটি ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর আগে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড তথ্য মন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসার জন্য শতাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার হস্তান্তর করেন।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল