নকল স্যানিটাইজার তৈরীর হোতা মানিক ঘোষ আটক

নকল স্যানিটাইজার তৈরীর হোতা মানিক ঘোষ আটক

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৭-১১: ০৮:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামে নকল স্যানিটাইজার তৈরীর মূলহোতা ও অনুমোদনহীন রাসায়নিক সরবরাহকারী মানিক ঘোষকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনি। তবে অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে এ অবৈধ কাজে তার সহযোগী জমজম ক্যামিকেলের মালিক মনসুর আলী।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা’র (এনএসআই) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানিক ঘোষকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক। তাঁকে সহায়তা করে এনএসআই’য়ের নগর গোয়েন্দা শাখা ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, “চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি শুরু পর থেকে অলি-গলি থেকে নামিদামি ফার্মেসি,সবখানেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছিলো অনুমোদনহীন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হেক্সাসল। গত তিনমাসে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জব্দ করা হয় বিপুল পরিমাণ নকল সুরক্ষা সামগ্রীও। তবে এবার অনুমোদনহীন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর মূল কাঁচামাল সরবরাহকারীকে ধরতে সমর্থ হয়েছে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।  অভিযানে নগরের জেল রোডের মানিক এন্টারপ্রাইজ ও জমজম কেমিক্যাল এন্ড পারফিউমারী নামে দুটি রাসায়নিক বিক্রির  প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।”

আভিযানের বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনুমোদনহীন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হেক্সাসল তৈরির মূলহোতা ধরতে গোয়েন্দা নজরদারিতে নগরের জেল রোডের মানিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মানিক ঘোষ ও জমজম কেমিক্যাল-পারফিউমারীর মালিক মনসুর আলীর বিষয়ে তথ্য পায় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও জেলা প্রশাসন। পরে ক্রেতা সেঁজে জমজম ক্যামিকেল ও পারফিউমারী থেকে অবৈধ ভাবে ৮০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এসময় দোকান মালিক মনসুর আলী জানান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তিনি সরবরাহ করতে পারবেন এজন্যে অগ্রিম টাকা দিয়ে ৮০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের অর্ডারও দেওয়া হয়। কিন্তু সরবরাহ করতে গেলেই গড়িমসি করতে থাকেন।”

“হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় আমাদের গোয়েন্দা দলকে আসতে নিরুৎসাহিত করতে থাকেন। পরে জানান তিনি ৮০ লিটার স্যানিটাইজার দিবেন তার বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গায় বা আমাদের  ঠিকানায়। চুক্তি অনুযায়ী আজ দুপুরে ৮০ লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা হয় মানিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মানিক ঘোষকে। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে জমজম কেমিক্যাল ও পারফিউমারী দোকানের মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, “আটক মানিক ঘোষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকার করেন তিনি জমজম কেমিক্যাল ও পারফিউমারীর কাছে অবৈধভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর কাঁচামাল স্পিরিট ও মিথানল বিক্রি করেন এবং বিক্রয়ে সহায়তা করেন। এছাড়া নিজেও খোলাবাজারে এসব বিক্রি করেন।”

“মানিক ঘোষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকার করেন, তিনি কারখানায় তৈরী নকল সুরক্ষা সামগ্রী ও কাঁচামাল বিভিন্ন পন্থায় বিক্রি করে আসছেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তিনি অর্ডার সংগ্রহ করেন ও নির্দিষ্ট জায়গায় সরবরাহ করেন। তিনি বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকের মাধ্যমে ড্রাম ভর্তি স্যানিটাইজার ও ক্যামিকেল সরবরাহ করেন।”- বলেন ওমর ফারুক।

এসময় নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী-বিক্রয় ও মানুষের সাথে প্রতারণার দায়ে মানিক ঘোষকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও জমজম কেমিক্যাল ও পারফিউমারী দোকানের মালিক মনসুর আলী ভ্রাম্যমাণ আদালতের খবর পেয়ে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি দোকানটি সিলগালা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, আগামীতে এসব কেমিক্যাল ব্যাবসায়ীর লাইসেন্স যাচাইয়ের পাশাপাশি আরো কোথায় কোথায় অবৈধ রাসায়নিক সরবরাহ করা হয় তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন অভিযানে নামবে। এছাড়াও মানিক ঘোষদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা পরিচালনার সিদ্ধান্তও আসছে।
 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল