যে জন্য আমিরাতে ঢুকতে বাঁধা প্রবাসীদের

যে জন্য আমিরাতে ঢুকতে বাঁধা প্রবাসীদের

 মুহাম্মদ মোরশেদ আলম, ইউএই প্রতিনিধি
  ২০২০-০৮-১৯: ০৭:১৩ পিএম

করোনা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবার পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আটকে পরা প্রবাসীরা আবার ফিরতে শুরু করেছেন কর্মস্থল আরব আমিরাতে। কিন্তু দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন প্রবাসীরা। অনেক প্রবাসীকে ঢুকতে না দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরৎ পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে?

কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি, কেন প্রবাসীদের আবুধাবি বিমান বন্দর থেকে স্ব স্ব দেশে ফেরৎ যেতে হচ্ছে? সব কিছুর মূলে বিশ্বমহামারী কোভিড-১৯। 

এ বিষয়ে আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত বলেন, কভিড-১৯ এর কারণে আবুধাবি প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। যে কারণে তারা অভিবাসীদের বেশকিছু বিষয় যাচাই বাছাই করছে। যাচাই বাছাই করে অভিবাসীদের আবুধাবি প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। তবে করোনা সমস্যার উন্নতির সাথে সাথে নিয়ম নীতি তারা শীতিল করতে পারে। তখন অভিবাসীরা সহজে আবুধাবি গমন করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে, ধাপে ধাপে নিয়মকানুন মেনে আবুধাবি যেতে হবে বলে জানান।

অভিবাসীদের আবুধাবি প্রবেশে দেশটি চালু করেছে এপিআই বা এডভান্স প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন (Advances passengers information-API) নামে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি।

যেখানে রয়েছে, একজন যাত্রী আবুধাবি আসার পূর্ব মুহূর্তে বিমান কর্তৃপক্ষ থেকে যখন বডিং পাশ নিতে যাবেন তখন বিমান কর্তৃপক্ষ তা আবুধাবি ইমিগ্রেশনকে জানানোর নাম হচ্ছে এপিএই বা এডভান্স প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন।

উদাহরণ স্বরূপঃ বিমানের পক্ষ থেকে আবুধাবি ইমিগ্রশনকে বলতে হবে আমরা আজকে ২০০ জন যাত্রী নিয়ে আসবো। যাত্রীদের সব তথ্য অর্থাৎ যাত্রী কারা আছেন সেটা আপনাদের ওয়েবসাইটে দিয়েছি। তখন আবুধাবি ইমিগ্রশন থেকে চেক করার পর বিমানকে বলবে সব যাত্রীর তথ্য ঠিক আছে, আসতে পারেন। তাহলে আবুধাবি গামী যাত্রীরা সবাই বডিং পাশ পাবেন। যদি আবুধাবি ইমিগ্রশন বলে ২০০ জনের মধ্যে ২০ জনের সমস্যা আছে, তাদের বাদ দিয়ে বাকীদের নিয়ে আসেন। তাহলে ২০ জনকে বিমান বডিং পাশ দিবেনা, মানে এয়ারপোর্ট থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর এ পদ্ধতির নাম এপিআই বা এডভান্স প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন। 

জুয়েল রানা নামে একজন প্রবাসী জানান, ১৯ আগস্ট ঢাকা বিমান বন্দর থেকে অনেক পার্টনার ভিসাধারীকে আসতে দিচ্ছে না বিমান কর্তৃপক্ষ।

সেক্ষেত্র বলতে পারি ইনভেস্টর বা পার্টনার ভিসাধারী হলেও আমিরাত সরকারের ওয়েবসাইটের গ্রিন বার্তাটির দরকার হবে। অর্থাৎ ওয়েবসাইটে চেক করে গ্রিন বার্তা পেলে আসার অনুমতি আছে। লাল বার্তা পেলে আসার অনুমিত নাই। আবার গ্রিন বার্তা থাকলেও আসার পূর্বে আবুধাবি ইমিগ্রেশন থেকে Advances Passengers Information নিতে হয়। তখন যদি আবুধাবি ইমিগ্রেশন থেকে বলে সব ঠিক আছে, তাকে বডিং পাস দেন, তাহলে দিবে অর্থাৎ আবুধাবি প্রবেশের সুযোগ পাবে। আর যদি বলে বডিং পাশ দেওয়া যাবেনা, তাহলে পার্টনার ভিসাধারী হলেও, বডিং পাশ দিবেনা অর্থাৎ তাকে বিমান বন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

আর আবুধাবি ইমিগ্রেশনের নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ আসলে তাকে আবুধাবি থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে। যার প্রমাণ দেশ থেকে আবুধাবি গামী ১২৭ জন যাত্রীকে গত সোমবার ফিরিয়ে দিয়েছিলো আবুধাবি ইমিগ্রেশন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবু জাফর ও বাংলাদেশ বিমানের আঞ্চলিক পরিচালক নিধান চন্দ্র বড়ুয়া জানান, আবুধাবি ইমিগ্রেশন থেকে বলছে, সমস্যা আছে কিন্তু সমস্যা কি সেটা জানা যাচ্ছেনা।

এদিকে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই'র পক্ষ থেকে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিমান, দূতাবাস তথা সরকারকে জোরালোভাবে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়।

এ জন্য প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আমিরাতের সাতটি প্রদেশের প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ সদস্যদের নিয়ে জরুরি অনলাইন মিটিং করেন।

অনলাইন মিটিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একযোগে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। দেশে করোনা পরীক্ষার নামে হয়রানি সহ প্রবাসীদের বিভিন্নভাব হয়রানির নিন্দাও জানানো হয়। প্রবাসীদের বার বার হয়রানি করা হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুমকিও দেন প্রেসক্লাবের নেতারা।

প্রবাসী সাংবাদিকরা বিমানকে এপিআই বা এডভান্স প্যাসেঞ্জারস ইনফরমেশন চেক করে, প্রবাসীদের সঠিক তথ্য জানানোর অনুরোধ করেন। এপিআই চেক না করে, সঠিক তথ্য উপাত্ত না জেনে প্রবাসীদের হয়রানির মধ্যে না ফেলার অনুরোধ করেন। 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল