প্রবাসে সততার নজীর সুমনের, ফেরৎ দিলেন ২৪ লাখ টাকা!

প্রবাসে সততার নজীর সুমনের, ফেরৎ দিলেন ২৪ লাখ টাকা!

 মুহাম্মদ মোরশেদ আলম, ইউএই প্রতিনিধি
  ২০২০-০৮-২৮: ১১:১৮ এএম

প্রবাসে সততার এক অনন্য নজীর গড়লেন ফেনীর সন্তান মহসিন সুমন। ২৪ লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে তা ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সুমন এখন আমিরাতে আলোচনার মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছেন। করোনার আলোচনা চাপিয়ে সততার গল্পে মুখর সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসীরাও। যে  গল্পের নায়ক হচ্ছেন মোছাফ্ফার আল আরাফাত কার ওয়াশের মালিক প্রবাসী ব্যবসায়ী মুহাম্মদ মহসিন সুমন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির শিল্প নগরী মোছাফ্ফাতে  সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বুধবার রিকভারীতে করে আসা পরিত্যক্ত একটি গাড়ীর সীটের নীচে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা কুড়িয়ে পান মুহাম্মদ মহসিন সুমন। করোনা কালীন অনেকটা অভাবী সময়ে তিনি আবুধাবি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে পুরো টাকা জমা দেন এবং টাকার প্রকৃত মালিককে টাকা ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। 

এতটাকা কুড়িয়ে পেয়ে ফিরিয়ে দেওয়ায় আবুধাবি পুলিশ প্রশাসন বাংলাদেশী প্রবাসীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

প্রবাসীরা মনে করেন তার সততায় আমিরাতের প্রায় সাত লাখ সহ সারাবিশ্বের এক কোটি চব্বিশ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীর ইমেজ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। 

মুহাম্মদ মহসিন সুমন ফেনী জেলার দাগনভূইয়া থানার দেবরাম পুরের আবুল মিয়া বাড়ির, মুহাম্মদ আবুল মিয়ার সন্তান। সুমন জানান, গাড়িটি রিকভারীতে করে আমার গ্যারেজে এসেছে, তাই টাকার মালিককে খুজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। টাকার মালিকের জন্য আমি একদিন অপেক্ষা করেছিলাম। কেউ আসেনি। তাছাড়া টাকা এতবেশি পুরাতন ছিলো দেখে মনে হচ্ছে অনেকদিন ধরে টাকা গুলি সীটের নিছে পড়েছিলো। পরের দিন আমি পুলিশ স্টেশনে গিয়ে সব টাকা জমা দিয়ে দিই। পুলিশ আমার সব ডকুমেন্টস রেখেছে প্রকৃত মালিককে খুজে পেলে আমাকে ডেকে মালিকের হাতে টাকা তুলে দিবেন, বলেছেন আবুধাবি পুলিশ।

সুমন বলেন একসময় আবুধাবি প্রবাসীদের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান আলমোল্লা বিল্ডিং এ আবদুল হক নামে আমার বাবার একটা গ্রোসারি তথা মুদির দোকান ছিলো। সে সময় থেকে একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসাবে আবুধাবিতে আমার বাবার ব্যাপক পরিচিতি ছিলো। আমি উনার সন্তান হিসাবে উনার কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি ২৪ লক্ষ টাকা নয় ২৪ কোটি টাকা পেলেও আমি ফিরিয়ে দিতাম। 

মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী (রনি) নামে আবুধাবি প্রবাসী একজন জানান, প্রায় বিশ বছর তাদের আল আরাফাত কার ওয়াশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বয়স। প্রায় সময় গ্রাহকের ফেলে যাওয়া আমানত ফিরিয়ে দিয়ে তারা এ ধরনের সততার অনেক নজির রেখেছে এবং সুনামের সাথে ব্যবসা করছে। তিনি আরো বলেন সুমন ভাইয়ের সততার কারণে আমরা প্রবাসীরা গর্বিত এবং আনন্দিত। 

আবুধাবির মোছাফ্ফাতে ২টি কার ওয়াশ,  স্পেয়ার পার্টস সহ মুহাম্মদ মহসিন সুমনের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও জানান মুহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী রনি।

সুমনের এমন সততায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, ইতিমধ্যে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা মুহাম্মদ মহসিন সুমনকে ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছি। তিনি বলেন এমন সৎ মানুষ গুলো হচ্ছেন দেশ ও জাতির প্রাণ। তাদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দেশপ্রেমের কারণে প্রবাসীদের মর্যাদা বাড়বে। সেই সাথে প্রিয় বাংলাদেশের ইমেজও বৃদ্ধি পাবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল