৫ বছরে একদিনও অফিস করেননি সমবায় কর্মকর্তা জেসমিন!

৫ বছরে একদিনও অফিস করেননি সমবায় কর্মকর্তা জেসমিন!

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-০৯-১৩: ০৪:৩০ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জেসমিন আখতার কর্মস্থলে না থেকে ঢাকায় বসে মোবাইল ফোনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তা-ও আবার একদিন দুই দিন নয়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ওই কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অবাক করা বিষয় হচ্ছে- ওই কর্মকর্তা একদিনের জন্যও নিজের কর্মস্থলে রাজীবপুরে আসেননি।

ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই বাস্তব চিত্র। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে অধিদপ্তরের ওপরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দিনের পর দিন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার সরেজমিনে উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরে খোঁজখবর নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই দিন রাজীবপুর উপজেলা সমবায় অধিদপ্তরের দরজায় তালা লাগানো থাকলেও জানালা খোলা পাওয়া গেছে। অফিসে অফিস সহকারী ও সহকারী পরিদর্শক- কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) রেজাউল করিমের দেখা পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ম্যাডাম ঢাকায় থাকেন। 

তিনি অফিসে আসেন না। কর্মরত অফিস সহকারী ও সহকারী পরিদর্শক দুজন মাসে একবার করে অফিসে আসেন। খালি আমি অফিসের দরজা খুলি আর বন্ধ করি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেসমিন আখতার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে যোগদান করেন। জেলা সমবায় অফিসে যোগদান করেই তিনি ঢাকায় ফিরে যান যা দীর্ঘ সময়েও একদিনেরও জন্যও তার কর্মস্থল রাজীবপুরে আসেননি। তবে প্রতিমাসের সরকারি বেতনভাতা ও আনুসাঙ্গিক খরচের বিল ঠিকই ভোগ করছেন তিনি। 

কার্যালয়ের অফিস সহকারী জামিউল ইসলাম বেতনভাতা তুলে ওই কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন। অফিসের কাগজপত্রে ও বেতনভাতায় কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে ওই সব কাগজপত্র কুরিয়ারের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয় বলেও জানিয়েছেন অফিস সহকারী জামিউল ইসলাম। 

এদিকে অফিসের কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকার কারণে কার্যালয়ের অফিস সহকারী ও সহকারী পরিদর্শক পদে কর্মরতরাও তাদের স্যারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তবে এ দুজন মাসে একবার করে অফিসে আসেন বেতনভাতা নেওয়ার জন্য। কার্যালয়ের একমাত্র সঙ্গী অফিস সহায়ক রেজাউল করিম। তিনি সকাল ১০টার দিকে অফিসের জানালা খুলে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যান আবার বিকালে তা বন্ধ করেন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সরকারি যে সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা তার ছিটেফোঁটাও পায় না উপজেলাবাসী। কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে সমবায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল