রাঙ্গুনিয়ায় বসতভিটা দখলে নিয়েছে আ.লীগ নেতার ভাই, করোনার অজুহাতে মামলা নিচ্ছেনা না পুলিশ

রাঙ্গুনিয়ায় বসতভিটা দখলে নিয়েছে আ.লীগ নেতার ভাই, করোনার অজুহাতে মামলা নিচ্ছেনা না পুলিশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১০-১৪: ০৩:১৮ পিএম

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে বসতভিটাসহ প্রায় পাঁচ একর জমি ও বাগান জোরপুর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ একাজে দখলদারদের প্রশ্রয় দিচ্ছে ওই আওয়ামীলীগ নেতা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

বসতভিটা ও জমি দখলের অভিযোগে মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত বলে থানা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মো. বেলায়েত আলী (৬০) ও তার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভূক্তভোগী বেলায়েত আলীর সঙ্গে তারা প্রতিবেশি ছায়েরা বেগমের (৩৫) সঙ্গে দীর্ঘ আট বছর ধরে বিভিন্ন কারণে মামলা মোকদ্দমা ও বিচার-শালিশ চলছে। গত ১১ অক্টোবর ছায়েরা বেগমের সঙ্গে ‘ঘনিষ্টতার’ সুযোগে হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনের ভাই ফরিদ উদ্দিন বেলায়েত আলীর পরিবারকে মারধর করে বসতভিটা দখলে নিয়েছে। ওই দিনের হামলায় ৪০ দিনের শিশুসহ বেলায়েত আলীর পরিবার ও প্রতিবেশিদের অনেকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়। এ কারণে গত তিনদিন ধরে বসতভিটা হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দিন পার করছে পরিবারটি।

এদিকে এঘটনারে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় রাঙ্গুনিয়া থানায় গেলেও ভূক্তভোগী বেলায়েত আলী ও তার পরিবার অভিযোগ দায়েরতো দুরের কথা থানা কম্পাউন্টে প্রবেশও করতে পারেনি। বরং ভুক্তোভোগীরা সবাই করোনা রোগী দাবী করে তাদের খানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভূক্তভোগী বেলায়েত আলী জানান, তার প্রতিবেশি ছায়েরা বেগম ২০১২ বারো সালে তার এক আত্মীয়কে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করে। টাকা দেওয়ার সময় মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখায় ওই ঘটনার পর থেকে বেলায়েত আলীর সঙ্গে ছায়েরা বেগমের বিরোধ চলছিলো।

এদিকে  ছায়েরা বেগমের সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্টতার কারণে হোসনাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল উদ্দিনের ভাই ফরিদ উদ্দিন বেলায়েত আলীর পরিবারের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় ও বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিলো। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও ফরিদ উদ্দিন রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বেলায়েত আলীকে কোনঠাষা করে রাখেন।

সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর ছায়েরা বেগম ও ফরিদ উদ্দিন তার সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে বেলায়েত আলীর পরিবারের উপর হামলা চালায়। তিনদিন ধরে চলা সংঘর্ষের এক পর‌্যায়ে ১১ অক্টোবর ফরিদ উদ্দিনরা বেলায়েত আলীর পরিবারকে তাদের বসতভিীটা থেকে উচ্ছেদ করে আশপাশের জমি-বাগানসহ প্রায় ৫ একর জায়গা দখলে নিয়ে নেয়।

বেলায়েত আলী বলেন, ‘১১ তারিখ থেকে আমি পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। ওরা আমার বাড়িঘর দখলে নিয়েছে। বাগানের অনেক গাছ কেটে নিয়ে গেছে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ঘটনা জানাতে থানায় গেলে আমাকে থানায় ঠুকতে দেওয়া হয়নি। প্রথমে আমাদের গ্রেফতাদের ভয় দেখানো হয়, পরে বলে আমাদের নাকি করোনা  আছে। এই বলে থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই উপায়ান্ত না দেখে আমি আজ সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।’


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল