বন্দরকেই কর্ণফুলী রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে

বন্দরকেই কর্ণফুলী রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১০-১৭: ০৭:৫৫ পিএম

কর্ণফূলীকে রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দরকে ভূমিকা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

আজ শনিবার বিকেলে কর্ণফুলী নদীতে সাম্পান বাইচের পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠাণে প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এছাড়াও বক্তারা বলেন,জনসাধারণের অসচেতন ও বেপরোয়া ব্যবহারে দিন দিন নদীগুলো অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। দখল ও ভরাটের করাল গ্রাসে অনেক নদী মরে গেছে। নদী বাঁচলে জীবন বাঁচবে। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই নদীকে বাঁচাতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, কর্ণফুলীতেই চট্টগ্রাম বন্দর। দেশে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প বন্দর নেই। দখল-দূষণে কর্ণফুলী যদি গতিপথ হারায় তখন বন্দর বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কর্ণফুলী রক্ষায় সকল আয়োজন চট্টগ্রাম বন্দরকেই করতে হবে। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়ালখুশি মতো নদীর তীর ও নদী লিজ দিয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকার পরও কর্ণফুলীতে ড্রেজিং এবং পাড় দখলমুক্ত করেনি।

অতিথিরা বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে কর্ণফুলীকে সচল রাখতে হবে। আজ সাম্পান খেলা ও চাঁটগাইয়া সাংস্কৃতিক মেলার মাধ্যমে কর্ণফুলী বাঁচানোর দাবি জানাতেই আমরা এসেছি।

কর্ণফুলীর দূষণের প্রতিবাদ জানাতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ।  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে আজ বিকেলে সাম্পান বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। সহযোগীতা করেছে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি।

বাইচ দেখতে আড়াই শতাধিক ছোট-বড় নৌকা ও সাম্পান নিয়ে নদীতে ভিড় করে দুই পারের লোকজন। এ ছাড়া দুই পাড়েও ছিল হাজার হাজার মানুষ। তারা সাম্পান বাইচ দেখতে অধীর আগ্রহে বেলা দুইটা থেকে অপেক্ষা করতে থাকেন।

কোনো কোনো দর্শনার্থীর নৌকায় ছিল মাইক ও শব্দযন্ত্র। সেখান থেকে ভেসে আসছিল কর্ণফুলী ও সাম্পান মাঝি নিয়ে লেখা বিভিন্ন জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান। ‘ওরে সাম্পানওয়ালা, তুই আমারে করলি দিওয়ানা’, ‘কর্ণফুলীরে সাক্ষী রাখিলাম তারে’ গানের সঙ্গে নেচেগেয়ে আনন্দ করেন তরুণ-তরুণীরা। এ ছাড়া বেজেছে ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র। সাম্পান খেলা উপলক্ষে বড় ইঞ্জিনচালিত স্টিমারের ছাদে শামিয়ানা দিয়ে মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখান থেকেই বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিলো।

দিনব্যাপী মেলা উপলক্ষে অভয়মিত্র ঘাটে বসেছে গ্রামীণ মেলা। সেখানে গৃহস্থালির বিভিন্ন সামগ্রী, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা ও অন্য সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। এসব কিনতে ভীর করেছে শিশু-কিশোরের দল।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল