মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন কাজ শুরু, ২০২৫ সালে চালুর আশা

মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন কাজ শুরু, ২০২৫ সালে চালুর আশা

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১১-১৬: ০৫:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প’র বিস্তারিত নকশা তৈরীর কার‌্যক্রম আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ নভেম্বর) বন্দর ভবনে মাতারবাড়ী পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের জাপানি কনসালটেন্ট নিপ্পন কোয়েইর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রথম সভার মধ্য দিয়ে এ কার‌্যক্রম শুরু হলো।

আজ বিকেলে বন্দর ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ।

তিনি জানান, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কনসালটেন্টে প্রতিষ্ঠান জাপনের নিপ্পন কোয়েইর সঙ্গে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চুক্তি সই হয়েছিল। আজ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রথম সভার মধ্য দিয়ে এ কার‌্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর নির্মানের যে চুক্তি সাক্ষর হয়েছিলো। আজ তারই ধারাবাহিকতায় কনসালটেন্টেদের সাথে আমাদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।’

তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর এখন আমাদের সময়ের দাবি। আপনারা জানেন চট্টগ্রাম বন্দর আমাদের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি। আমাদের আমদানি-রফতারি ৯২ ভাগ এই বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের অর্থনীতির গতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের এগিয়ে চলা সম্ভব হচ্ছেনা। অলমোস্ট এটির সক্ষমতা একেবারে শেষ পর‌্যায়ে। এর প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে আমাদের আরো বন্দরের পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও পতেঙ্গা বে টার্মিনাল নিয়ে আমাদের কার‌্যক্রম চলছে।’

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনার সরকার নিয়ে যে অর্থনৈতিক রোর মডেল আজকে বাংলাদেশকে আজকে করেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেটা হচ্ছে সেটার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী জাপান ভ্রমণে গিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে বিগ-বি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বঙ্গোপসাগরের মাতারবাড়ীতে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই পলশ্রুতিতে জাইকার অর্থায়নে নিপ্পন কোয়েই-জাপান ও আমাদের স্থানীয় একটি ফার্মকে আমরা আমাদের এই প্রকল্পের জন্য কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ করি। এটা শুরু হলো আজকে থেকে, ইনশাআল্লাহ ২০২৬ সালে মধ্যে আমরা বন্দর কার‌্যক্রম শুরু করতে পারবো।’

কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোয়েই’র দল প্রধান হোতানি বলেন, ‘আমরা মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ণ প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা তৈরী ও প্রকল্প উন্নয়ণ তদারকির জন্য জাপানের ৩০ জন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী, বাংলাদেশের ১৮ জন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ওিএ দেশীয় আরো ২১ জন কর্মী নিয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। আমাদের দল বন্দরের নকশা প্রণোয়ন, টেন্ডার দেখাশোনা এবং প্রকল্প সুপারভিশনের দায়িত্ব পালন করবে।’

হোতানি জানান, পুরো প্রকল্পটি দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে প্রকল্পের প্রণোয়ন, টেন্ডার দেখাশোনা এবং প্রকল্প সুপারভিশনের কাজ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বন্দরের কার্গো হেন্ডেলিং যন্ত্রপাতি ও বন্দরের অপারেশনাল কার‌্যক্রমের তদারকি করা হবে। এক্ষেত্রে আজ থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের পুর্নাঙ্গ নকশা প্রণয়ন করা হবে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের টেন্ডার এসিসটেন্সের কাজ করা হবে। পরে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রকল্প সুপারভিশন করা হবে।

 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল