বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে স্যালুট দাও, নয়তো পাকিস্তান যাও

বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে স্যালুট দাও, নয়তো পাকিস্তান যাও

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১১-১৭: ০৮:১৫ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ বলেছেন, 'স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও মৌলবাদী গোষ্ঠী আবারও মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় যদি থাকতে হয় তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্যে স্যালুট দিয়ে চলতে হবে, আর নয়তো পাকিস্তানে চলে যেতে হবে।'

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা এবং জাতির পিতাকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ।  

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মায়মুন উদ্দিন মামুন ও আনোয়ার পলাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ।

তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সাম্প্রদায়িক গোষ্টির বক্তব্য মেনে নেওয়া যায়না। শুধু ঢাকায় নয়, প্রতিটি শহরে, গ্রামে ও উপজেলা-ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হতে হবে। নতুন প্রযন্মকে বঙ্গবন্ধুর সাথে পরিচয় করাতে হবে।'

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, 'আপনারা সকলেই জানেন বাংলাদেশ হচ্ছে উদার একটি অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্বৃত্তে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আজকে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যারা একাত্তর সালে পরাজিত হয়েছিল, পঁচাত্তরে পরাজিত হয়েছিল, বিভিন্ন সময়ে যারা মাথাচাড়া দিতে চেয়েছিল তারা আবারও একত্রিত হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। যা আমরা দেশপ্রেমী নাগরিক হিসেবে কখনো মেনে নিতে পারি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক রাশেদ হাসান বলেন, "আমরা সহনশীলতা দেখানোর ফলে এসব ধর্মান্ধরা জাতির জনকের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তোলার মতো স্পর্ধা দেখাতে পারে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় সূর্য সন্তানদের ভাস্কর্য দেশের প্রতিটি জেলায় উপজেলায় স্থাপন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদীদের আস্ফালন দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।"

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার সাধারণ সম্পাদক শিবু প্রসাদ চৌধুরী, আবৃত্তি শিল্পী প্রণব চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, আবু সাঈম সুমন, হোসেন আহমদ রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরফাত কচি, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনির ইসলাম, জাবেদুল ইসলাম জিতু, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কাজী নাঈম।

বক্তারা বলেন, "আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য নিয়ে ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।"

"বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসের অংশ। এই প্রজন্ম ভাস্কর্য দেখে শিখবে। ইতিহাস জানবে। এটা মূর্তি কেন হবে? বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ।  লালনের ভাস্কর্য, হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য এবং সনাতন ধর্মের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদ করেছি আমরা। মৌলবাদীদের আর কোনভাবেই ছাড় দেওয়া যাবেনা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, যুবলীগ নেতা জয় শংকর সরকার, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুন্নবী শাহেদ, শাহাদাত সালাম শাওন, তানভীর মেহেদী মাসুদ, মুজিবুর রহমান রাসেল, নোমান চৌধুরী রাকিন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিমুন্য রায় সৌরভ, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক খন্দকার নাঈমুল আজম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল কায়সার প্রমুখ।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল