স্ত্রীকে পেট্রোলে পুড়িয়ে পুলিশের কাছে গোশত দিয়ে ভাত চায় রাফেল!

স্ত্রীকে পেট্রোলে পুড়িয়ে পুলিশের কাছে গোশত দিয়ে ভাত চায় রাফেল!

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১১-২১: ১০:০৯ এএম

রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে পেট্টোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাফেল (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ তাকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মাহবুব মিল্কি।

আটক রাফেল (৩০) রাঙ্গুনিয়া থানার সন্দ্বীপ পাড়ার মৃত মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে।

ওসি মাহবুব মিল্কি বলেন, 'সাত বছর আগে ইয়াছমিনের সঙ্গে রাসেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে রাফেল ইয়াছমিনকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুক নিয়ে তাদের মধ্যে অন্য দিনের মতোই কথা কাটাকাটি হয়। তার জের ধরে শুক্রবার ভোর রাতে রাফেল ইয়াছমিনের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দগ্ধ গৃহবধূ ইয়াছমিন বর্তমানে চমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন।'

ঘটনার বিভৎস বিবরণ দিয়ে রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শামীম আনোয়ার জানান, যৌতুক দাবি করে না পেয়ে শুক্রবার ভোরে স্ত্রীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাফেল। স্ত্রী ইয়াছমিন যখন পেট্রোলের আগুনে পুড়ছিলো তখন ইয়াছমিন আর্তচিৎকার করে ৭ বছরের সংসার এবং ৪ বছর বয়সী সন্তানের দোহাই দিয়ে অসহায় ইয়াসমিন স্বামীর কাছে আকুতি জানাচ্ছিল যেনো তাকে এভাবে পুড়িয়ে না মারে। ইয়াছমিন প্রাণ বাঁচাতে ঘরের বাইরে পালিয়ে আসতে চাইলেও বাধা দেয় স্বামী। পুড়তে পুড়তে এক পর্যায়ে শরীরে লেপ্টে থাকা পেট্রল ফুরিয়ে গেলে ইয়াসমিনের শরীরের আগুন নিভে যায়।

কিন্তু এবার রাফেল নতুন খেলায় মাতে সে। স্ত্রীর পোড়া শরীর থেকে কাবাব করা মুরগির মতো করে চামড়া তুলে নিতে থাকেন দুই হাতের ঘষায়। একেক ঘর্ষণের সাথে খসে পড়তে থাকে পুড়ে যাওয়া চামড়া, সাথে ইয়াসমিনের মরণ চিৎকার। কিন্তু তাতেও রাফেলের নিষ্ঠুরতায় কোন হেরফের ঘটে না। উল্টো মেয়ের যন্ত্রণার খানিকটা ভাগ বাবা-মাকেও দিতে ফোন করেন ইয়াসমিনের বাসায়। এত গভীর রাতে জামাইর ফোন পেয়ে উৎকন্ঠিত শাশুড়ি ফোন তুলতেই তাকে সোজা জানিয়ে দেন, ‘তোর মেয়েকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছি। এসে নিয়ে যা’। রাফেলের পাশবিকতা-হিংস্রতার এখানেই শেষ নয়। পৈশাচিকতার চূড়ান্ত উদাহরণ সৃষ্টি করে আর্তচিৎকার করতে থাকা স্ত্রীকে রেখেই পাশের কক্ষে গিয়ে দিব্যি ঘুমিয়েও পড়েন তিনি।

এএসপি সার্কেল শামীম আনোয়ার বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে বর্বর স্বামী রাফেলকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু আটকের পর রাফেলের আচরণ ছিল আরো নিষ্ঠুর। স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার পরও তার ভেতর কোনো ভয়ডর কিংবা আত্মগ্লানি ছিল না। উল্টো থানা হাজতে খোশমেজাজের সঙ্গে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ার আব্দার করে পুলিশের কাছে।'

চমেক বার্ণ ইউনিটের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন বলেন, 'আগুনে ইয়াছমিনের শরীরের পা, উরুসহ নিচের অংশ প্রায় পুরোটাই দগ্ধ হয়েছে। যা শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ।'

 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল