বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে: প্রধানমন্ত্রী

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২০-১২-১৭: ০৪:২৫ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বিশ্বাস দুই বন্ধু রাষ্ট্র বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের ভিত্তিতে অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের বৈঠকটি ভার্চুয়ালি হচ্ছে। গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের নয়াদিল্লি প্রান্ত থেকে যোগ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারত সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- ‘আমাদের সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন চলছে। মাত্র কয়েক মাস আগে, ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন হয়েছে। বাংলাদেশে বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করেছে। আজ বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করেছে।

সরকার প্রধান বলেন, ‘বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা ভারতে নিজ দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে থাকে।’

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের চলমান যোগাযোগের উদ্যোগগুলো এক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর অন্যতম উদাহরণ হলো ‘চিলাহাটি-হলদিবাড়ি’ রেল সংযোগ পুনরায় চালু করা।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। করোনা মহামারি মোকাবেলায় ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রশংসা করেন। তুলে ধরেন বাংলাদেশের পদক্ষেপগুলো।

‘এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। এ ক্রান্তিকালে উভয় পক্ষের সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য। আমার সরকারও এ মহামারির অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে মার্চের গোড়ার দিকে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরে আমরা আড়াই কোটিরও বেশি মানুষকে সহায়তা দিতে সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি।

করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলে আগামী ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন শেখ হাসিনা।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল