হালদা নিয়ে রামপালের মত ভুল বুঝাবুঝি এড়াতে ‌‌‘সতর্ক’ করলেন মন্ত্রী

হালদা নিয়ে রামপালের মত ভুল বুঝাবুঝি এড়াতে ‌‌‘সতর্ক’ করলেন মন্ত্রী

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০২১-০১-০২: ০৪:২১ পিএম

হালদা নিয়ে রামপালের মত বুঝাবুঝি এড়াতে সতর্কতার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘তিনমাসে হালদার মাছ প্রজনন হয়, এখানে উন্নয়নের ব্যাপারে ভ্রান্ত ধারণার কারণে যদি প্রকল্প ব্যহত হয় তাহলে এর দায় সবাইকে বহন করতে হবে। আমরা পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। ভুল বুঝাবুঝি করলে কিচ্ছু হবে না। রামপাল পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অনেক ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।’

শনিবা্র (০২ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রামে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু’তে চীন সরকারের অনুদান হিসেবে পাওয়া এলইডি বাল্ব বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মিরসরাইতে যদি ইকোনোমিক জোন করতে হয় তাহলে বিদ্যুৎ লাগবে, গ্যাস লাগবে, পানি লাগবে। এই সমস্থ সাপোর্ট গুলো সরবরাহ করার জন্য আপনাদের সবাইকে সহযোগীতা করতে হবে। মিসআন্ডার্সট্যান্ডিং সৃষ্টি করা ঠিক হবেনা। হালদায় প্রতি সেকেন্ডে ৩৭০ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সেখান থেকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কিউসেক পানি যদি উত্তোলন করা হয় তাহলে নদীর পানি প্রবাহের কোনো সমস্যা হবে না। এটা হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লার উন্নয়ণ, চট্টগ্রামের উন্নায়ণ, ঢাকার উন্নয়ণ সবগুলোই কিন্তু একিভূত ভাবে করতে হবে। ঢাকা যদি খারাপ থাকে, চট্টগ্রাম যদি বঞ্চিত হয় তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ণ হবে না। সে কারণে সবগুলোর জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা নিয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করতে হবে।’

দেশের স্বার্থে সমন্বয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিরসরাইতে ইকোনোমিক জোন হবে, সেখানে ৩০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবার জন্য একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইকোনোমিক জোনকে কার‌্যকরি করার জন্য আমাদের সবাইকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে হবে। একেক জায়গায় একেকটা জিনিশ পাওয়া যায়। এখন আমরা যদি সেখানে শিল্পনগরী করি তাহলে সেখানে পানি পাওয়া যাবে না। এক জায়গায় শ্রমিক পাওয়া যাবে আরেক জায়গায় পানি পাওয়া যাবে। এখন সবগুলিকে সমন্বয় করতে হবে।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত দেশ গড়তে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখছেন, এখন তা বাস্তবায়ন করছেন তার কন্যা। আমি তার সহকর্মী হিসাবে আছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যের অনেক উন্নতি হয়েছে। ২০৪১ সালে আমরা উন্নত বাংলাদেশে গড়বো। সেই লক্ষে পৌছানের জন্য যে পথ নকশা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রচণা করেছেন সে অনুযায়ি বাংলাদেশে হাঁটছে। এবং চট্টগ্রামও তার সাথে একিভূত ভাবে কাজ করবে। আমরা চট্টগ্রামের উন্নয়ণের কাজ করি, তাঁদের উন্নত জীবনযাপনের ব্যপারটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য স্ব স্ব দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের নালা-নর্দমা-খাল-বিল যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা না হয়, তাহলে তো এখানে একটা আবাসস্থল হবে না। আপনাকে যদি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই শহরে বসবাস করতে চান তাহলে আপনাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগী হতে হবে। নালা-নর্দমা গুলো পরিস্কার করতে হবে, খাল-বিল গুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।’

খাল ও জলাধার সুরক্ষায় জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘খাল মিষ্টি পানি ধারণ করে। এই ভালো পানিটার কারণে ইকোলোজিকাল ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। সেই পানির সুবিধাটা ভোগ করতে পারবো তখন, যখন এটিকে সত্যিকার অর্থে সংরক্ষণ করবো। এই খালের দুই পারেই যদি ওয়াক ওয়ে করা হয়, তাহলে পানিটা সুন্দর করে সংরক্ষিত হবে। গাছগাছরা লাগাবেন একটি সুন্দর পরিবেশ হবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করার জন্য আমরা যারা বসবাস করি তাদের সবার একটি দায়িত্ব আছে।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে যুগ্ম সচিব শাকিলা ফারজানার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, স্থানীয় সরকারের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়,  ২০১৬ সালে সাক্ষরিত এক সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে চীন সরকার ১৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টি উন্নতমানের এলইডি বাল্ব বাংলাদেশেকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। জাহাজে চীন থেকে আসা এই উপহার সামগ্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বাংলাদেশে সরকারের পক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ ও গুদামজাত করে। প্রথম দফায় চট্টগ্রামে এর বিতরণ শুরু হলো। এসব বাল্ব দেশের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ গুলোর কাছে পর‌্যায় ক্রমে বিতরণ করা হবে।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল