রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে মডেল সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে মডেল সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২১-০১-১০: ০৪:০৫ পিএম

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশে পৃথিবীতে মডেল সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এমপি ।

রোববার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের দুই বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রকাশিত বই দুই হলো ‘রোহিঙ্গা-নিঃসঙ্গ নিপীড়িত জাতি গোষ্টি ও শেষ সীমান্তের পর কোথায় যাবো আমরা’। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা সংস্থা খড়িমাটি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আবদুল মোমেন এমপি বলেন, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যারা একাই ১১ লক্ষ শরনার্থী আশ্রয় দিয়েছে। ইরাক, ইরান ও সিরিয়ার ১০ লক্ষ শরনার্থীকে ইউরোপের ২৭ টি দেশ ভাগ করে নিয়েও সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। আর এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছেন। প্রথম কিন্তু বিদেশিরা কেউ সাহায্য করে নাই। আমাদের এখানকার মানুষরাই তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, খাবার দিয়েছে। এই মহানুভবতা আর কোথায় আছে? আমরা এটার মাধ্যমে আদর্শ সৃষ্টি করেছি, মডেল সৃষ্টি করেছি; যে বাঙ্গালিরা মানুষ। তারা মানুষকে মানবিকতা দেখাতে জানে।’

ইউরোপের রেনেসাঁ বিপ্লবের আগেই বাঙ্গালীরা মানবতার জয়গান গেয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যখন ১৭শ খৃষ্টাব্দে রেনেসাঁ যখন প্রতিষ্টিত হয়, তারও আরো আগে এই বঙ্গভূমে চন্ডিদাশ লিখে গেছেন ‌‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ চন্ডিদাশের এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে যখন, ওই সব দেশ তখন চিন্তাও করে নাই। আমরা সেই বাঙ্গালী, আমরা সেই মানুষ। আমরা মানুষ বলেই এতো আগে মানবতার জয়গান গেয়েছি। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের শাশ্বত সত্যকে আবার প্রতিষ্টিত রুপ দিয়েছেন এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মায়ানমারের সাথে আলোচনা চলছে। ১৯৭৮ সনে দেখেছি, ১৯৯২ সনে দেখেছি। তখন অনেক রোহিঙ্গা আমাদের দেশে এসেছে। ১৯৯২ সনে প্রায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলো। পরবর্তিতে আলোচনার মাধ্যামে তারা ২ লক্ষ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিয়েছে। সে জন্য আমরা আশাবাদি। এখনো তারা নিয়ে যাবে। কিন্তু কখন তা বলা মুশকিল।’

তিনি বলেন, ‘মায়ানমার আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র। তাদের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে। তারা বারবার বলছে, তারা তাদের লোক গুলোকে নিয়ে যাবে। কখনো বলে নাই নিয়ে যাবে না। তবে আমরা বলেছি, ঠিক আছে নিয়ে যাও, তবে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেছে, আমরা তাদের (রোহিঙ্গা) সিকউরিটি এনশিউর করবো। আমরা তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ প্রায় সাড়ে তিন বছর একটি রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। কারণ তাদের মধ্যে আন্তরিকতার অভাব।’

মায়ানমার বারবার নানা অযুহাতে আলোচনা পিছিয়ে নিচ্ছে জানিয়ে বলেন, ‘গত বছর ৩০ জানুয়ারির পর আমাদের বড় মিটিং হয়েছে। এরপর তারা কোভিডের বাহানা দিয়ে, তারপর ইলেকশনের বাহানা দিয়ে এ বিষয় গুলো পিছিয়ে নিয়েছে। তবে এবার তাদের দেশে ইলেকশন শেষ। আমরা আশা করছি যে আমরা আবার নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারবো। আজকেও মায়ানমারের সাথে আলোচনা চলছে।’

মন্ত্রী মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের লেখা বই প্রসঙ্গে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলতে হেলে রেফারেন্সের প্রয়োজন হয়। কারণ অনেকে মনে করে রোহিঙ্গারা চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়া। তাই মেজর (অব.) এমদাদের এই বই গুলোকে আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবো। এখানে ১২ শ বছর আগের ইতিহাসও লিপিবদ্ধ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যরিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি,  দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল মো. মহসিন, দৈনিক সূপ্রভাতের সম্পাদক রুশো মাহমুদ। মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল