চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন যাবে প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান’

চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন যাবে প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান’

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২১-০১-১১: ০৮:০৫ পিএম

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদী থেকে সাগরপথে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত বিলাসবহুল প্রমোদতরীর যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ জানুয়ারি। বেসরকারি কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন রুটে ‘বে ওয়ান’ নামে এই জাহাজ সাগরে ভাসাচ্ছে।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গায় ওয়াটার বাস টার্মিনালে নোঙর করা ‘বে ওয়ান’ জাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাপান থেকে জাহাজটি আনা হয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর এটি পূর্ব চীন সাগর অতিক্রম করে। ১৫ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রওনা দেয়। আন্দামান ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে এই প্রমোদতরী। আনুষাঙ্গিক মেরামতের মাধ্যমে জাহাজটিকে নতুন করে বিলাসবহুল রূপ দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেটি ভাসানো হচ্ছে সাগরে। এরই মধ্যে পতেঙ্গা থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পরীক্ষামূলকভাবে জাহাজটি চালানো হয়েছে।

জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪৫০ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট। এটি ঘণ্টায় ২৪ নটিক্যাল মাইল বেগে চলবে। এতে আছে প্রেসিডেন্ট স্যুট, বাংকার বেড কেবিন, টুইন-বেড কেবিন, আরামদায়ক চেয়ারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন। এছাড়া একটি অভিজাত রেস্তোরাঁ, স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন এবং কয়েন পরিচালিত ঝর্ণাও আছে। যাত্রীদের সেবায় এই জাহাজে থাকবেন মোট ১৬৭ জন ক্রু থাকবেন, যার মধ্যে ১৭ জন জাহাজটি মূলত পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

সপ্তাহে তিন দিন ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ পতেঙ্গা ওয়াটার বাস টার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে।

এম এ রশিদ জানিয়েছেন, সর্বনিম্ম দুই হাজার টাকা থেকে প্রত্যেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় এই প্রমোদতরীতে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে সবচেয়ে বেশি রুম আছে তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। নাস্তা-খাবারসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকবে। জাহাজে রাতযাপন, সমুদ্র বিনোদনের সুযোগ আছে।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চালানো যাবে— এটা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করেনি। আমরা খুব ভালো একটি জাহাজ জাপান থেকে এনেছি। এটা দুই হাজার যাত্রী নিয়ে সৌদিআরব পর্যন্ত যেতে সক্ষম। ঝড়-তুফানেও জাহাজে কোনো সমস্যা হবে না। এর দুইপাশে দু’টি পাখা আছে। সাগরে তিন-চার পর্যন্ত বা এর বেশি সিগন্যাল থাকলেও এর কোনো সমস্যা হবে না। ১০ নম্বরের মতো সিগন্যাল হলে হয়তো কাত হবে, দুলবে।’

এম এ রশিদ জানান, জাহাজটি মূল সেন্টমার্টিন দ্বীপে নোঙর করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে নোঙরের পর সেখানে অপেক্ষমাণ ছোট জাহাজে তুলে যাত্রীদের সেন্টমার্টিন নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজটির প্রতিদিনের খরচ ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। প্রত্যাশা অনুযায়ী যাত্রী পেলে আমরা এটা কন্টিনিউ রাখতে পারব।’

পর্যটন মৌসুম শেষে জাহাজটি অলস বসে থাকবে কি না— এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব কলকাতা-আন্দামান রুটে চালানোর জন্য। এজন্য সরকারের কাছে অনুমতি চাইব। হজের যাত্রী পরিবহনের যদি অনুমতি সরকার দেয়, তাহলে আমরা এর সঙ্গে আরও ৩-৪টা জাহাজ নিয়ে আসব।’

তবে জাপান থেকে আনা জাহাজটি ২৮ বছরের পুরনো। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ২৫ বছরের পুরনো জাহাজ সাগরে ভাসানোর ওপর নিষেধ আছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এম এ রশিদ বলেন, ‘এই আইন শুধু আমাদের দেশে আছে। বিদেশে পেসেঞ্জার জাহাজ ৫৫-৬০ বছরের পুরনো হলেও চলে। কার্গো (পণ্যবাহী) জাহাজ ২৫ বছরের পুরনো হলে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু প্যাসেঞ্জার জাহাজে সমস্যা হয় না। আমাদের দেশে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার— দুইটাকে এক করে আইন তৈরি করেছে। আমরা এই আইন পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। দুর্ঘটনাকবলিত বাংলার সৌরভ জাহাজ মেরামত করে দেওয়ার জন্য আমরা ২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। সেটা মেরামত করে সরকারকে ফেরত দিয়েছি। অথচ কেউ বলেনি, সেটা আবার সাগরে ভাসবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে পাঁচটি টাগবোট নির্মাণ করে দিয়েছি। এ পর্যন্ত আমরা ১২০০ জাহাজ নির্মাণ করেছি। প্রায় ৮০০ জাহাজ মেরামত করেছি। বে ওয়ান ক্রুজও আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ।’

কক্সবাজার যাবার জন্য দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বিমানে আসা যাত্রীরা চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ না করে সরাসরি জাহাজের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন এবং একইভাবে চট্টগ্রামে এসে আবারও বিমানে ফিরে যেতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল