‌‘ওষুধেও কেন মশা মরে না’- জানতে ঢাকা যাচ্ছেন চসিক কর্মকর্তারা!

‌‘ওষুধেও কেন মশা মরে না’- জানতে ঢাকা যাচ্ছেন চসিক কর্মকর্তারা!

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০২১-০২-১৭: ০৩:৫৫ পিএম

পুরো বছর জুড়েই মশার উপদ্রব থাকে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কমবেশি সব এলাকায়। ডেঙ্গুবাহী এডিসসহ মশা নিধনে বছরব্যাপী ওষুধ ছিটালেও তা কোনো কাজে আসছেনা। লাগামহীন মশার উপদ্রবে চরম অতিষ্ঠ যেমন নগরবাসী। তাই ওষুধ ছিটালেও মশা কেন মরে না তা জানতে এবার ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

এম রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি আপনারা চিন্তা করার আগে আমরা চিন্তা করেছি। ওষুধটি কেন এফেক্টিভলি কাজ করছেনা সেটি জানতে ঢাকা টিম পাঠাচ্ছি। ঢাকা যে ওষুধটি ইউজ করছে, ওইটির সাথে এটির কোনো ডিফারেন্স আছে কিনা সেটা আমরা তদারকি করে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমার কর্মদিবসের তৃতীয় দিন। এই শহরকে কিভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার যায় এটা নিয়ে কথা বলতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। উনাদের ব্রিফ করা হয়েছে, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে ইনশাল্লাহ চট্টগ্রাম শহরকে একটি সুন্দর শহরে পরিনত করা হবে। এই লক্ষে আগামী শনিবার থেকে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু হবে।’

এর আগে আজ সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পুরাতন ভবনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলায়তনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিছন্ন বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও সুপার ভাইজারদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আক্তার, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, মেয়রের একান্ত সহকারী আবুল হাশেম।

সভায় এম রেজাউল করিম চৌধুরী কর্মকর্তাদের বলেন, ‘আমি এই শহরের মানুষ। এই শহরে এক সময় গ্যাসবাতি জ্বলতো রাস্তায়। সেই সময় থেকে এই শহরকে দেখছি। তাই আমি জানি এ শহরের সমস্যা গুলো কোথায়।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ অনেক আশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। তারা এখন আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখতো চায়। আমি চাই আমরা সবায় একটি পরিবার হিসেবে সেই লক্ষে কাজ করবো। একটু আন্তরীকতা থাকলেই সেই কাজ আমরা করতে পাররো।’

কাজ আদায়ের বিষয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিতে কে কিভাবে কাজ করেছেন তা আমার জানান বিষয় নয়। তবে এখন থেকে হক আদায় করে কাজ করতে হবে। কোনো অনৈতিক কাজ আমাকে দিয়ে কেউ করাতে পারবে না, আপনারাও করতে পারবেন না। ব্যতিক্রম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

মেয়র বলেন, ‘শহরকে পরিচ্ছন্ন করার জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো আমাদের করতেই হবে। একটি পরিবারে যেমন পিতা অবিভাবক, তেমনি এই কর্পোরেশনে আমাকে অবিভাবক করা হয়েছে। পিতার মতই আপনাদের বিপদে-আপদে আমাকে যেমন পাশে পাবেন, তেমনি অর্পিত কর্তব্যে অবহেলা করছে শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’

এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিয়ে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামকে মডেল শহরে পরিনত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল