পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে আসছে ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প

পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে আসছে ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০২১-০২-২৩: ০৮:৫৯ এএম

চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায় আগাম বন্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘পটিয়া উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়িত হলে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সারা বৎসর সেচ কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে। ফলে রবি, খরিফ ও বরো ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা, বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মিঠা পানির মাছ চাষ বৃদ্ধি এবং খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মাছের মাইগ্রেশন সহজ করাসহ এলাকাটির বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ২ দশমিক ৯৫ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ৩০ দশমিক ২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ২৫ দশমিক ৫১ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ২৬টি সেচ অবকাঠামো, ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার ফ্লাডওয়াল, একটি সেতু নির্মাণ এবং ৫৮ দশমিক ৯৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ করার মাধ্যমে পটিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর পানি নিষ্কাশন ও ধারণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে ফসল উৎপাদনের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশে উন্নীত করা। এছাড়া ১১টি খালে ৩০ দশমিক ২০ কিলোমিটার পুনঃখনন করে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোগুলো নির্মাণ করার মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৩২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া এবং ২ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ২৫ দশমিক ৫১০ কিলোমিটার বাঁধ ও ৪ দশমিক ১০০ কিলোমিটার ফ্লাডওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে নদীর ভাঙন রোধ করে আগাম বর্ষায় আকস্মিক বন্যা ও মৌসুমি বন্যা থেকে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১ জানুয়ারি প্রকল্প মুল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত প্রতিপালন করায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। তারা জানান, প্রকল্পটি সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বাষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার বিদ্যমান খালগুলো ভরাট হওয়ার কারণে বর্ষার পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। যাতে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে এবং জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা দেখা দেয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে ভূ-পৃষ্ঠের পানির চরম সংকট দেখা দেয়। ফলে কৃষি কাজ ব্যহত হয়। শিকলবাহা-মুরালী-বোয়ালখালী নদীর ডান তীর ও চান্দখালী নদীর বাম তীরে বাঁধ নির্মাণ করা হলে এবং পানি নিয়ন্ত্রণ ও সেচ কাঠামো নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার হাত থেকে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাগুলো রক্ষা পাবে এবং ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে খাদ্য নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া কালিগঞ্জ ব্রিজ থেকে ইন্দ্রপোল পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ের সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও আগাম বন্যার সমস্যা সমাধানের জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদ্য সাবেক সদস্য (সাবেক সচিব) জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোর পানি নিষ্কাশন ও ধারণ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে ফসর উৎপাদনের নিবিড়তা বাড়ানো সম্ভব হবে। ২ দশমিক ৯৫০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ, ২৫ দশমিক ৫১ কিলোমিটার বাঁধ ও ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার ফ্লাডওয়াল নির্মাণের করার মাধ্যমে নদীর ভাঙন রোধ করে আকস্মিক ও মৌসুমি বন্যা হতে প্রকল্প এলাকার ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল রক্ষা করা যাবে। এবসব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।’


নিউজটি শেয়ার করুন

সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল