বিশ্বসেরা ১০০ বন্দরে চট্টগ্রাম ৬৪তম

বিশ্বসেরা ১০০ বন্দরে চট্টগ্রাম ৬৪তম

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৮-০২: ০৪:৪৬ পিএম

কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম আরো ৬ ধাপ উপরে উঠে এসেছে। লন্ডন ভিত্তিক মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’ এর প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪তম। লয়েডস লিস্ট প্রতিবছর বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে তাদের ওয়েবসাইটে এ তালিকা প্রকাশ করে। কনটেইনার ওঠানামা এবং প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় শিপিং বিষয়ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম লয়েডস লিস্ট'র রিপোর্ট প্রকাশ করে তাদের ওয়েবসাইটে।

এর আগে ২০১৮ সালে এ তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৭০তম। ২০১৬ সালে ৭১তম, ২০১৫ সালে ৭৬তম, ২০১২ সালে ৯০তম, ২০০৯ সালে ৯৮তম, ২০০৮ সালে ছিল ৯৫তম।


‘ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০১৯’ শিরোনামে লয়েডস এর ওই তালিকায় গতবারের শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে চীনের সাংহাই বন্দরসহ ৩৬টি বন্দর। প্রথম অবস্থান সাংহাই বন্দরের। ২০১৮ সালেও বন্দরটি তালিকায় প্রথম ছিল। দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর বন্দর। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও নবম অবস্থানও ধরে রেখেছে চীনের বিভিন্ন বন্দর। ষষ্ঠ অবস্থানে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দর। দশম অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই পোর্ট। নেদারল্যান্ডসের রটারডেম পোর্ট রয়েছে ১১তম অবস্থানে। মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ১২তম হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের জওহরলাল নেহেরু বন্দর ২৮তম ও মুন্দারা ৩৬তম অবস্থানে রয়েছে। 
তবে গত বারের অবস্থান হারিয়েছে চীনের সেনজেনসহ ৪২টি বন্দর। অবস্থান হারিয়ে বন্দরগুলির অবস্থান এখন- সেনজেন-চীন চার, দুবাইপোর্ট দশম, জার্মানীর হামবুর্গ উনিশতম, ইউএসএ'র নিউইয়র্ক পোর্ট তেইশতম, টোকিও পয়ত্রিশতম, ওমানের সালালা একান্নতম।
বিশ্বসেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় নিজেদের নামটি লিখিয়েছে চারটি বন্দর। সেগুলি হচ্ছে-আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস বিরানব্বইতম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বন্দর পচানব্বইতম, চীনের জিয়াজিং ছিয়ানব্বইতম ও চিলির সান এন্তোনিও নিরানব্বইতম।
তালিকার একেবারে নীচে শততম অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ানের তাইপে বন্দর।
 

লয়েডস লিস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০১৭ সালে যা ছিল ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৩ টিইইউ’স। প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশ্বসেরা চীনের সাংহাই ২০১৮ সালে হ্যান্ডলিং করেছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ২০০ টিইইউ’স। ২০১৭ সালে যা ছিল ৪ কোটি ২ লাখ ৩৩ হাজার টিইইউ’স। প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ এমপি মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রমাণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠানামার এই বড় প্রবৃদ্ধি। যেভাবে দেশ আগাচ্ছে সেভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, টার্মিনাল-জেটি বাড়েনি। এর পরও বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে বন্দর যেভাবে সামাল দিচ্ছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম মনে করেন, স্বাধীনতার পর দেশে জেটি হওয়ার প্রয়োজন ছিল ৭০টি কিন্তু হয়েছে মাত্র সাতটি। ফলে বন্দরের অবকাঠামো প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। বে টার্মিনালসহ বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যেই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের দিকে বন্দরকে জরুরিভাবে নজর দিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে জানান, সরকার ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর দিন দিন উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বন্দরের জন্য ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ বা ‘কিউজিসি’সহ আধুনিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ, ইয়ার্ড ও টার্মিনাল ফ্যাসিলিটি বাড়ানো, অটোমেশন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণেই লয়েলডস লিস্টে  ৬৪তম অবস্থানে পৌঁছেছে আমাদের বন্দর। এটি জাতির জন্য গৌরবের বলেও মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি), বে-টার্মিনাল অপারেশনে গেলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ক্রমে বাড়বে। তখন বিশ্বের সেরা ১০০ বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম আরও অনেক এগিয়ে আসবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম এ লতিফ এমপি মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের প্রমাণ হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার ওঠানামার এই বড় প্রবৃদ্ধি। যেভাবে দেশ আগাচ্ছে সেভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো হয়নি, টার্মিনাল-জেটি বাড়েনি। এর পরও বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে বন্দর যেভাবে সামাল দিচ্ছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বন্দরের এই অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে জেটি হওয়ার প্রয়োজন ছিল ৭০টি কিন্তু হয়েছে মাত্র সাতটি। তিনি বর্তমানে বন্দরের বেশ উন্নতি হয়েছে জানিয়ে, বে টার্মিনালসহ বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।  


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল