ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু ন গইল্ল্যে আই যাইয়ুম গুই : এমপি বাদল

ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু ন গইল্ল্যে আই যাইয়ুম গুই : এমপি বাদল

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৮-০৯: ০৫:৪৮ পিএম

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট পয়েন্টে নতুন সেতু না হলে সংসদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু ন গইল্ল্যে আই যাইয়ুম গুই (অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি কিছু না হয়, তাহলে আমি চলে যাব)।

কালুরঘাট সেতুর জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দিতেও রাজি আছেন বলে জানান বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মঈন উদ্দীন খান বাদল।

তিনি বলেন, প্রেমের টানে মানুষ জাত কূল মান বিসর্জন দেয়। আমি এবার জনগণের প্রেম রক্ষায় নিজের জাত ছেড়ে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগে যাব। সেতু ছাড়া আমার আর কিছুই চাই না।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবে কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতু নির্মাণের দাবিতে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বাদল।

 

তিনি বলেন, আমার জীবদ্দশায় কালুরঘাট সড়ক কাম রেল সেতুটির বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই। এ সেতুর জন্য আমি আমার ‘সবেধন নীলমণি' রাজনৈতিক জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি এমপি পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার কথা পর্যন্ত বলেছি। আমার দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমি তো আর কিছু চাইনি।

বাদল বলেন, কালুরঘাটে নতুন সেতু নিয়ে চারবার সমীক্ষা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, বাংলাদেশ ও কোরিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সমীক্ষাগুলো চালিয়েছে। কোরিয়ান কোম্পানি চূড়ান্ত সমীক্ষা করেছে। রেলওয়ের ধারণা, ৮০০ কোটি টাকা লাগবে। কোরিয়ানরা বলেছিল, ১২০০ কোটি টাকা লাগবে। তারা ৮০০ কোটি টাকা দিতে রাজি। জলাবদ্ধতার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা অনির্বাচিতদের হাতে দিলেন। অথচ মাত্র ৩৯০ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ পেলেই কালুরঘাট সেতুর কাজ শুরু করা যায়।

এ সেতুর জন্য তারা মরা মা-বাবাকে গালি খেতে হয় অভিযোগ করে বাদল বলেন, কালুরঘাট সেতুর ৭১-৭৯ জায়গায় কর্ণফুলী দেখা যায়। আড়াই মাইল গতিতে ফার্নেস অয়েলবাহী ও কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন যায়। ৫০ হাজার লোক এ সেতু দিয়ে হেঁটে পার হন। ২-৩ ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষাকালীন মানুষ আমার মৃত মাকে গালি দেন। এর থেকে মুক্তি চাই।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বাদল বলেন, আপনি চট্টগ্রামের দায়িত্ব হাতে নিয়েছেন। এ চট্টগ্রামের উন্নয়নে আপনি হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছেন। সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার সর্বপ্রথম উদ্যোগ কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করছেন। চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল লাইন করতে কালুরঘাট রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। আমার দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর একমাত্র দাবি শুধু রেল সেতুর সঙ্গে সড়ক সংযুক্ত করা। এ সড়ক কাম রেল সেতুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে সমগ্র দেশের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি সবচেয়ে বড় সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাবে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ হাবকে সংযুক্ত করবে। কক্সবাজারে ঝিনুক মার্কা আন্তর্জাতিকমানের রেল স্টেশন করা হচ্ছে। আমি এর বিপক্ষে নই। যদি কালুরঘাট সেতু না হয় তাহলে ঝিনুক ভেঙে মুক্তা বেরিয়ে যাবে।

বাদল বলেন, ফ্লাইওভার করছেন সবার বাধা উপেক্ষা করে। চট্টগ্রাম পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য যেখানে ফ্লাইওভারের নিচেও পানি, উপরেও পানি। গবেষণা বলছে, ৪১ বছর পর চট্টগ্রাম পানির নিচে ডুবে যাবে। এর নমুনা এখন দেখছি। চট্টগ্রাম-৮ আসনের শহরাঞ্চলে জোয়ারের পানি ঢুকে। জোয়ার কবে আসবে জেনে বিমানবন্দরে যেতে হবে।

তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, দায়দায়িত্ব মাথায় রেখে বলতে চাই, ১০ বছরে বহুবার বলেছি, চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিনিয়োগে মাথায় রাখতে হবে প্রায়োরিটি ও কস্ট বেনিফিট। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জন্য কর্ণফুলী, শঙ্খ, মাতামুহুরী, বাঁকখালীতে সেতু লাগবে।

পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে বাদল বলেন, চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল হলে দেশের ৩০ বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী সন্দ্বীপ চ্যানেলে বন্দর করার কথা বহু আগে বলেছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে এ সংসদ সদস্য বলেন, রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়ার শুরু থেকে বিরোধিতা করেছি। তাদের জন্য মিয়ানমারের মধ্যে সেফ জোন করতে হবে। কসবো, গাজার মতো সেফ জোন করতে হবে। এ জন্য কাফফারা দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষকে। রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। ভৌগোলিক মানচিত্র, সংস্কৃতি পরিবর্তন করে ফেলছে।

এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হলো প্রায় এক বছর। এ সময়ে চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে এমপিদের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনাই তো চোখে পড়েনি। আপনারা সংসদ সদস্যরা আজ পর্যন্ত এক সঙ্গে বসেননি। আপনাদের সমন্বয়হীনতাও উন্নয়নের প্রতিবন্ধক-এ প্রসঙ্গ অনেকটা যৌক্তিক। দশের লাঠি একের বোঝা। আপনি এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্যকে নিয়ে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। আমরা সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাব।

এ সময় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিনিয়র সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ফারুক ইকবাল, মুস্তফা নঈম, হাসান আকবর, কামাল পারভেজ, আবুল হাসনাত, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, অনিন্দ্য টিটো, রমেন দাশগুপ্ত, আল রহমানসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। 


ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন